‘গৃহিণী এলপিজি কার্ড’ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার

‘গৃহিণী এলপিজি কার্ড’ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি গৃহিণীদের জন্য ‘গৃহিণী এলপিজি কার্ড’ চালুর প্রস্তুতি চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে।

বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক সরকার। সরকার মনে করে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। সেই জানার আগ্রহ পূরণের উদ্দেশ্য থেকেই সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সাফল্য এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে এই ই-বুক প্রকাশ করা হয়েছে।


এই ই-বুকে বলা হয়েছে, স্বতঃস্ফূর্ত জনরায় ও মানুষের বিপুল আস্থায় গঠিত সরকার শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটায়নি, রাষ্ট্র সংস্কারেরও নতুন যাত্রা শুরু করেছে। সরকার শুধু নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তাবায়নের প্রক্রিয়ায় থেমে নেই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিতেও গুণগত পরিবর্তন এনেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ ছিল আমদানিনির্ভর ও ঋণনির্ভর অর্থনীতি, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং দুর্বল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্যে। সরকার প্রথম দিন থেকেই পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে। তবে প্রথম ১৮০ দিনে প্রতিটি খাতে শতভাগ সাফল্যের দাবি করেনি সরকার।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের শতভাগ আন্তরিকতা ছিল। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই ই-বুকে গ্যাস অনুসন্ধানে উদ্যোগ বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার জানায়, ২০২৫-২৬ মেয়াদে ৫০টি এবং ২৬-২৮ মেয়াদে আরও ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের লক্ষ্য রয়েছে পেট্রোবাংলার। এছাড়াও, অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও সংস্কার মিলিয়ে বর্তমানে ৫০টি কূপে কাজ চলছে। এর মধ্যে ৩১টি পুরোনো কূপ সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে ই-বুকে বলা হয়, ২০১২ ও ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো বিদেশি কোম্পানি চূড়ান্ত প্রস্তাব দেয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশের সীমানায় কোনো বিদেশি কোম্পানি গ্যাস অনুসন্ধান চালাচ্ছে না। সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি অনুযায়ী ২৬টি ব্লকের জন্য আবারও আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

নিম্নআয়ের গ্রামীণ ও প্রান্তিক পরিবারকে ভর্তুকিতে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সরকার প্রকাশিত ওই ই-বুকে। এর মাধ্যমে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজ বর্জ্যের পরিবর্তে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে।

সরকার জানিয়েছে, নিম্ন-মধ্যম আয়ের গ্রামীণ ও শহরতলির পরিবারের গৃহিণীদের জন্য ‘গৃহিণী এলপিজি কার্ড’ চালুর প্রস্তুতি চলছে। কার্ডধারীদের সিলিন্ডর কেনায় মাসিক লক্ষ্যভিত্তিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180335