দিনাজপুরে সাপে কাটা রোগীর ভরসা বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা গত ৩৮ দিনে ২৯ জন সাপে কাটা রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন। এর মধ্যে ৪ জন গোখরা সাপে কাটা রোগী ছিল, যাদের চিকিৎসা দেয়া ছিল অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং।
চিকিৎসকদের একের পর এক সাফল্যের কারণে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এই অঞ্চলের সাপে কাটা রোগীদের ভরসার হাসাপাতালে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালটিতে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ দিয়ে সহায়তা করছেন বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মারুফ হাসান।
আশংকা জনক ৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন- গত বুধবার বোচাগঞ্জ উপজেলার ইজিবাইক চালক তরিকুল ইসলামের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার (১৮), ২৫ জুলাই বোচাগঞ্জ উপজলোর দকচাই গ্রামের সাদেকুল (২১), ১০ জালগাঁও গ্রামের সুজন চন্দ্র রায় (২৭) ও ৪ জুলাই কাহারোল উপজলোর তারগাঁও গ্রামের প্রকৃত চন্দ্র রায় (৪৩)।
বোচাগঞ্জ উপজেলার ইজিবাইক চালক তরিকুল ইসলামের স্ত্রী সাদিয়া আক্তারকে গত বুধবার বিকালে বাড়ির বারান্দায় একটি সাপ কামড় দেয়। তাকে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ায় সেখানের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো: আবদুল্লাহ ইবনে এনাম সহ চিকিৎসকেরা দংশনস্থানে বাইট মার্ক শনাক্ত করে সাদিয়া আক্তারকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন।
পরবর্তীতে বিষক্রিয়ার নিউরোলজিক্যাল লক্ষণ প্রকাশ পেলে জাতীয় চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী দ্রুত রোগীকে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করে। সময়মতো চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রোগী সম্পূর্ন সুস্থ হয়ে ওঠেন।
ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো.আবদুল্লাহ ইবনে এনাম বলেন, সীমাবদ্ধ সম্পদের মাঝেও সঠিক সিদ্ধান্ত আর মজবুত টিমওর্য়াকের কাছে হার মানল আরও একটি বিষধর সাপের কামড়। পর পর তিনটি সফল যুদ্ধের পর, বুধবার বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা যুক্ত করলাম আরও এক প্রাণ বাঁচানোর গল্প।
বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায় বলেন, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের মাধ্যমে অধিকাংশ সর্পদংশনের রোগীকেই সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
বোচাগঞ্জ উপজলো নির্বাহী অফিসার মো. মারুফ হাসান বলেন, অনেক মানুষ রয়েছে যারা সাপে কামড়ানোর পর হাসাপাতালে আসলেও অর্থের অভাবে অ্যান্টিভেনম কিনতে পারেন না, অনেক সময় আবার উপজেলা পর্যায়ে টাকা থাকলেও ফার্মেসিগুলোতে অ্যান্টিভেনম কিনতে পাওয়া যায় না। তাই উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180165