শাপলা চত্বর হত্যায় যেসব আসামিকে গ্রেফতার দেখালেন ট্রাইব্যুনাল

শাপলা চত্বর হত্যায় যেসব আসামিকে গ্রেফতার দেখালেন ট্রাইব্যুনাল

রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের মধ্যে আট আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রবিবার এ মামলায় ৯ আসামিকে হাজিরের পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

নয়জনের মধ্যে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আগে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিলো।

যাদের নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয়, তারা হলেন- সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মণ্ডল।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম বলেন, আজকে এ মামলার নয়জন আসামি যারা অন্য মামলায় গ্রেফতার আছেন তাদেরকে ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী হাজির করা হয়েছে।

তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরও দু’জনের (হাসানুল হক ইনু ও ড. আব্দুর রাজ্জাক) বিরুদ্ধে প্রডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী তারিখে হাজির করা হবে।

তিনি আরও জানান, ৪১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় পলাতকদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তাদেরকে এখনও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে নাই। ২০ জনের বিষয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে তাদের খোঁজা হয়েছে তবে পাওয়া যায়নি। আরও ১০ জনের বিষয়ে এখনও পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেয়নি। ৩ সেপ্টেম্বর বাকি ১০ জনের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা দু’জনসহ ১১ জনকে ওই দিন হাজির করতে বলা হয়েছে। 

২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ৫৭ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ মামলায় আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন- ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দফতর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।

প্রসিকিউশনের তথ্য মতে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180151