বগুড়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন
শহর প্রতিনিধি : ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো বগুড়ায় শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ। আজ রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন কমিটির আয়োজনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিনের কার্যক্রমের শুরু হয়। বটতলা চত্বর থেকে বগুড়া সদরের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, জেলা মৎস্য অফিসার মো. খালেকুজ্জামান সরকারসহ জেলার প্রান্তিক মৎস্য খামারি, উদ্যোক্তা, হ্যাচারি মালিক ও বিভিন্ন মৎস্যবিষয়ক বহুজাতিক কোম্পানি নিয়ে একটি র্যালি সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদে এসে শেষ হয়।
জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও পুরষ্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রেজাউল করিম বাদশা এমপি মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করেন। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ) যতি বিকাশ চন্দ। অনুষ্ঠানে জেলা মৎস্য অফিসার মো. খালেকুজ্জামান সরকারের স্বাগত বক্তব্যের পর আরও বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক ময়নুল হক বকুল, উদ্যোক্তা সামিউল সাদিক, সোনার বাংলা মৎস্য হ্যাচারির সত্ত্বাধিকারী মঞ্জুরুল হক সোনা। জেলার শ্রেষ্ঠ ও সফল মৎস্য উৎপাদনকারী বিবেচনায় এবছর বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুঁপচাচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরষ্কার পাচ্ছেন বলেও জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করিম বাদশা এমপি বলেন, বগুড়ার কাহালু, নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি, দুঁপচাঁচািয়াসহ কয়েকটি উপজেলায় মাছের পোনা উৎপাদনসহ মৎস্য চাষ হয় অনেক আগে থেকেই। এসব এলাকার খামারিদের বাজারজাতকরণ সহজ করতে সরকারের নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার আশ্বাস দেন তিনি। বগুড়ায় মাছের নানা রোগ নিরুপণ ও জাত ও মানোন্নয়নে একটি পরীক্ষাগার তৈরির বিষয়েও সরকারের নজরে আনবেন বলেও জানান তিনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা খালের মাধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মৎস্য বিপ্লব শুরু হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শুরু করা মৎস্যচাষীদের প্রণোদনাসহ নানা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের সন্তান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবছর দেশিয় প্রজাতির ছোট মাছ উৎপাদন ক্যাটাগরিতে পুরষ্কৃত করা হয়-কাহালু উপজেলার ভালশুন গ্রামের দিহান মৎস্য খামারের সত্ত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম, নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাই ভাই মৎস্য খামারের আব্দুল মালেক পুরষ্কার পেয়েছেন কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে, মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে যুব উদ্যোক্তা হয়ে পুরষ্কৃত হয়েছেন শেরপুর উপজেলার আলতাদিঘীর কুসুম্বা গ্রামের সামিউল সাদিক এবং বগুড়া সদরের কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে পুরষ্কার পেয়েছেন দি আরেফা মৎস্য খামারের রাজা মিয়া শেখ। নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধিদের সম্মাননা স্মারক, সনদ এবং গাছের চারা উপহার প্রদান করা হয়। পরে সরকারি শিশু পরিবারের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180131