নওগাঁর ১০ উপজেলার খাল খননে সাশ্রয় ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা

নওগাঁর ১০ উপজেলার খাল খননে সাশ্রয় ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা

নওগাঁ প্রতিনিধি: নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক সারা দেশে মরা খালগুলো পুন:খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় নওগাঁর ১০টি উপজেলার ১৩টি খাল খনন/পুন:খননকৃত করার জন্য অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

ইতোমধ্যেই সবগুলো খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। খাল খননে সরকারী বরাদ্দকৃত অর্থ খরচের পর বেঁচে যাওয়া ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮ টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে জেলার সদর উপজেলার ১ কিমি দৈর্ঘ্যরে শ্যামপুর মেইন রাস্তা হয়ে হরিপুর হয়ে কালুপাড়া বিল অভিমুখে খাল পুন:খননের জন্য ৭১লাখ ১০হাজার ৮শত ৭৯ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৫২লাখ ৪৫হাজার ৭শ’ ২৮টাকা ব্যয়ে খাল খননের পর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১৮লাখ ৬৫হাজার ১শত ৫১টাকা।

এছাড়া ২.০৪০ কিমি দৈর্ঘ্যরে হামড়ার বিল হতে কৃষ্ণপুর অভিমুখে খাল পুন:খননের জন্য ৯০লাখ ৪২হাজার ১৫টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৬৭লাখ ৫৭হাজার ৯শ’ ৬৫টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ২২লাখ ৮৪হাজার ৫০টাকা।

রাণীনগর উপজেলার ৩ কিমি দৈর্ঘ্যরে দেওলা বড়গাছা ব্রিজ হতে মালশন গিরিগ্রাম অভিমুখে খাল পুন:খনন কাজের জন্য ৭৭লাখ ২৮হাজার ৮শ’ ৪২টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথ মান বজায় রেখে এবং স্থানীয় বেকার ও অসহায় মানুষদের অংশগ্রহণে খাল পুন:খনন কাজে ৭২লাখ ৬০হাজার ৯শ’ ৩২টাকা ব্যয় করার পর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ৪লাখ ৬৭হাজার ৯শ’ ১০টাকা।

আত্রাই উপজেলার ১.১৪০কিমি দৈর্ঘ্যরে নওদাপাড়া সিংসাড়া খাল হতে শুকচারা মাঠ অভিমুখে খাল পুন:খনন কাজের জন্য ২৯লাখ ৩৯হাজার ৬শ’ ২৬ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। খনন কাজে ২৪লাখ ৬৩হাজার টাকা ব্যয় শেষে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ৪লাখ ৭৬হাজার ৬শ’ ২৬টাকা।

বদলগাছি উপজেলার ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে চাঁপাইনগর বাছিরের বাড়ি হতে আধাইপুর শেষ মাথা পর্যন্ত খাল পুন:খননের জন্য ৫১লাখ ৫৩হাজার ৯শ’ ৯৫টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৩৯লাখ ৮০হাজার ৬শ’ ৫টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১১লাখ ৭৩হাজার ৩শ ৯০টাকা।

এছাড়া ১.২কিমি দৈর্ঘ্যরে ঢেঁকড়া সফির জমি হতে খোর্দ্দভূবন ব্রিজ পর্যন্ত খাল/ক্যানেল সংস্কারের জন্য ৭৭লাখ ২৮হাজার ৮শ ৪২টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৪৮লাখ ২৯হাজার ৬শ’ ৩২টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ২৮লাখ ৯৯হাজার ২শ’ ১০টাকা। বদলগাছি উপজেলা থেকে খাল খনন ও সংস্কার কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে সবচেয়ে বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলার ২.৩কিমি দৈর্ঘ্যরে নারায়ণপুর ব্রিজ থেকে কুড়াইল গ্রামের শেষ মাথা পর্যন্ত খাল পুন:খননের জন্য ৫৯লাখ ২৬হাজার ৪শত ৪৯টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৪৬লাখ ৭৫হাজার ৫শ’ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ১২লাখ ৫০হাজার ৯শ’ ৪৯টাকা।

মান্দা উপজেলার ১.৫ কিমি দৈর্ঘ্যরে হারকিশোর মৌজার বিল উথরাইল ব্রিজ হতে বাদলঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুন:খননের জন্য ৫৪লাখ ১১হাজার ৪শ ৮০টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৫৪লাখ ১হাজার ১শ ৫৩টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ১০হাজার ৩শ ২৭টাকা।

এছাড়া ২.১কিমি দৈর্ঘ্যরে বাঁকাপুর মৌজার বাঁকাপুর দফাদার মোড় মেইন রোড হতে বিল উথরাইল খাল পুন:খনন কাজের জন্য ৫৪লাখ ৬২হাজার ৯শ ৭৭টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৫৪লাখ ৪২হাজার ৭শ ৭৩টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ২০হাজার ২শ ৪টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

পোরশা উপজেলার ৩.২৫০কিমি দৈর্ঘ্যরে ইলাম মৌজার মাক্তাপুর মোড় হতে হাতিখোচা বিল অভিমুখে খাল পুন:খননের জন্য ১ কোটি ২৮লাখ ৭৮হাজার ৫শ ৩৭টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। খনন কাজে ১ কোটি ১৫লাখ ৮৮হাজার ৮শ ৮৮টাকা ব্যয় করার পর সরকারি কোষাগারে ১২লাখ ৮৯হাজার ৬শ ৪৯টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

নিয়ামতপুর উপজেলার ২কিমি দৈর্ঘ্যরে বিষ্ণুপুর বাবুল হাজীর জমি হতে বিষ্ণপুর ব্রিজ হয়ে সন্তোষপাড়া ছাতড়া ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুন:খনন কাজের জন্য ৬৪লাখ ৪১হাজার ৪শ ১৯টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৫৪লাখ ৫৭হাজার ৬শ ৫৭টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ৯লাখ ৮৩হাজার ৭শ ৬২টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

পত্নীতলা উপজেলার ১.৮কিমি দৈর্ঘ্যরে ২নং ওয়ার্ডের চক আবদাল (কাষ্ণিপুকুর) ইট ভাটার নিকট হতে পত্নীতলা আবেদিয়া স্লুইসগেট অভিমুখে খাল খননের জন্য ৫৪লাখ ৬৮হাজার ১শ ২৬টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৪৫লাখ ৫০হাজার ৫শ ২৬টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ৯লাখ ১৭হাজার ৬শ টাকা।

ধামইরহাট উপজেলার ২কিমি দৈর্ঘ্যরে চৌঘাট ব্রিজ হতে দক্ষিণ দিকে ছিলিমপুর স্লুইসগেট পর্যন্ত খাল পুন:খননের জন্য ৫৭লাখ ৪৬হাজার ২শত ১০টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪লাখ ৩০টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ৩লাখ ৪৬হাজার ১শ’ ৮০টাকা।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠন করার পরই দেশের মৃতপ্রায় খালগুলো পুন:খননের উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেন। মৃত খালগুলো খনন বা পুন:খননের ফলে পানিসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, কৃষির উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

তাই সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক জেলার খালগুলো খনন কিংবা পুন:খনন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরো জানান স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকির মাধ্যমে প্রতিটি খাল খনন করা হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180093