সিরাজগঞ্জ-৩ এমপি ভিপি মো. আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলা-ভাংচুরের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলা ও ভাংচুর করার অভিযোগ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া আড়চালা এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) উপজেলা পরিষদের সন্নিকটে স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, মতবিনিময় সভায় ওই বিষয় নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করে। এরপর এমপি সবাইকে বলেন, আমি আপনাদের এমপির উপজেলা বিএনপির ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে পরামর্শেক্রমে এটার সমাধান আনা হবে এই বলে সভাস্থল থেকে এমপি আয়নুল হক গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সেখানে আবারো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ইট নিক্ষেপ করা হয়।
এবিষয়ে প্রত্যেক্ষদর্শী পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী মো. ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, এমপির গাড়িতে হামলা হয়েছে। শিবিরের, এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। অন্যদিকে এমপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও চান্দাইকোনা, সোনাখাড়া, ধুবিল ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে চান্দাইকোনা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা এমপির গাড়িবহরে হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামী, শিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বক্তব্য দেন। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ সামছুল ইসলাম বলেন, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) উপজেলা পরিষদের সন্নিকটে স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি এঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর প্রতিবাদ করে বলছি এধরনের ঘটনার সাথে যারা জরিত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক বলেন, ঘটনার পর গাড়িতে বসে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘সরকারদলীয় এমপি হওয়ার পরও আমাদের জানমালের নিরাপত্তা নেই। আমি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছি। কিন্তু এনসিপি, জামায়াত-শিবিরের ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীসহ সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছে।
আমার জানমালের নিরাপত্তা নেই। আমি দ্রুত এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’‘‘আজ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তি হামলা করেছে। প্রশাসন আজ রাতেই এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে।’’
এবিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা: এসএম মুনসুর আলী বলেন, আমি সিরাজগঞ্জ শহরে ছিলাম। এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
ঘটনার পর রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এবিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম খান বলেন, “এ ঘটনায় রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এমপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামলার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং ঘটনার সাথে জরিতদের গ্রেফতার করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180089