ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে ঢাবিতে ছাত্রশিবিরের সেমিনার

ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে   ঢাবিতে ছাত্রশিবিরের সেমিনার

ঢাবি প্রতিনিধি : ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘শিক্ষার বি-উপনিবেশায়ন: আবদুল মালেকের শিক্ষা-প্রস্তাবনা ও বর্তমান বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের জুলাই শহিদ স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

​সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খান এবং প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খান।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। এছাড়াও প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক ও প্রাবন্ধিক শিহান বিন ওমর।



প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শহীদ আব্দুল মালেক ছিলেন শিক্ষাব্যবস্থা ও নৈতিকতার প্রশ্নে গভীরভাবে চিন্তাশীল একজন বিপ্লবী তরুণ। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানুষ তৈরি করা নয়; বরং নৈতিক ও মানবিক মানুষ গড়ে তোলা। তাঁর শিক্ষা-প্রস্তাবনায় জ্ঞান, সামাজিকীকরণ ও নৈতিকতার সমন্বিত বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

​তিনি উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতার সম্পর্ক ছিন্ন হলে জ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিও মানবকল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাঁর এই স্বতন্ত্র অবস্থানের কারণেই তাঁকে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হয় এবং পরবর্তীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মমভাবে আঘাত করে তাঁকে শহীদ করা হয়। জ্ঞান, প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিকতার বিকাশকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করার ওপর তিনি জোর দেন।


ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তাঁর বক্তব্যে বলেন, শহীদ আবদুল মালেকের শিক্ষা-প্রস্তাবনা বর্তমান সময়েও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আবদুল মালেক এমন কোনো শিক্ষাব্যবস্থা চাননি, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু ঔপনিবেশিক প্রশাসনের জন্য কেরানি তৈরি হবে। বরং তিনি ধর্মতত্ত্ব, বিজ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা ও আধুনিকতার সমন্বয়ে একটি শিক্ষা কাঠামোর কথা বলেছিলেন।

​তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট তাঁর এই শিক্ষা-ভাবনার বিরোধিতা থেকেই হামলা হয়েছিল এবং ১৫ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন, যা ছিল এই ক্যাম্পাসের প্রথম ছাত্রহত্যা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে ভাবার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেখানে আধুনিকতা ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় থাকা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।

​সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, আবদুল মালেক এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলছিলেন যেখানে কিছু সাধারণ মূল্যবোধ (Common Values) থাকবে, যা শুধুমাত্র ঔপনিবেশিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল হবে না বরং একটি জাতির পরিচয় প্রকাশ করবে।

​তিনি আরও বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার যে 'প্রোডাক্ট' হিসেবে আমরা গড়ে উঠছি, তা মূলত আমাদের নৈতিক মানুষ হিসেবে তৈরি করতে পারে না; নৈতিকতা আমাদের নিচ থেকে শিখে নিতে হয়। শহীদ আবদুল মালেকের যৌক্তিক বক্তব্যের কারণে ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট যে হামলার পটভূমি তৈরি হয়েছিল এবং ১৫ আগস্ট তাঁর শাহাদাত, তা স্মরণ করে বর্তমান শিক্ষা সংস্কারের প্রস্তাবনায় এই বিষয়গুলো মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আবদুল মালেক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও জহুরুল হল সংসদের ভিপি আহসান হাবীব সঞ্চালনা করেন ঢাবি শিবিরের প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ। 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180067