দৈনিক করতোয়া উত্তর জনপদের কণ্ঠস্বর

দৈনিক করতোয়া উত্তর জনপদের কণ্ঠস্বর

মোদাচ্ছেরুজ্জামান মিলু : গর্ব করেই বলতে হয় যে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সংবাদপত্রের জগতে দৈনিক করতোয়া তার মেধা ও মননের বিস্তার ঘটিয়ে দিনে দিনে পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এভাবে দেখতে দেখতে পত্রিকাটি ৫০ বছর পূর্তি করে ৫১ বছরে পদার্পণ করলো সেটাও বেশ আনন্দের নিঃসন্দেহে। পাঠক হিসেবে আমাদের বুঝতে আর বাকী রইলো না যে মেধা, মনন ও একাগ্রতায় দৈনিক করতোয়া পাঠকের মন জয় করে আজ জাতীয় পত্রিকার সাথে সমানতালে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। অনেকের একটি ধারণা ছিলো যে, ঢাকা থেকে যে পত্রিকা বের হবে সেই পত্রিকার ক্রেজ বেশি হবে বা সারা দেশে ধুমছে চলবে। কিন্তু বাস্তবে সেই ধারণাকে পেছনে ফেলে করতোয়া তাদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে দেখিয়ে দিচ্ছে বিপরীত চিত্র। তাই বলতেই পারি যে এই পত্রিকা দিনে দিনে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী এগিয়ে গেছে এবং আরো যাবে।

পাঠকের কী কী চাহিদা থাকতে পারে? আমরা দেখতে পাই, ঢাকা থেকে প্রকাশিত যত পত্রিকা বের হয় তাতে আমাদের উত্তর জনপদের সব খবর আসে না অথবা আরো তিন/চার দশক আগে তেমনটাই ছিলো। আমি গাইবান্ধার নাগরিক হওয়াতে যখন দেখতে পেয়েছিলাম করতোয়া পত্রিকাটি বিভিন্ন চরের সমস্যাবলী, খরা, বন্যা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বেশিরভাগ খবর প্রচার করতো। সেইসাথে আরেকটা বিষয় না বললে অপূরণীয় হয়ে থাকবে সেটি হলো ব্রান্ডিং। করতোয়া নামের পত্রিকাটি পাঠকের হাতে সবার আগে হাতে চলে আসে। হাতে নিয়ে যখন আমি আঞ্চলিক খবরাখবরের সাথে জাতীয় খবরও পেয়ে যাই তখন তো আমার মনের খোরাক পূরণ করেই ফেললো। এই ব্র্যান্ডিং এর আরেকটা বিষয় আছে তা হলো অথেনটিক নিউজ, বিশ্লেষণমূলক উপসম্পাদকীয়, খেলার খবর, পড়াশুনাসহ সবকিছু মিলে ঝকঝকে তকতকে একটি আকর্ষণীয় কালার পত্রিকা হাতে পাওয়া। এতবছর পরে আবারো বলবো যে পত্রিকার নামটি হয়েছে আমাদের উত্তরের করতোয়া নদীর নামে। 

তাই উত্তরের ভৌগোলিক পরিচিতিতে দৈনিক করতোয়া নদীর সাথে সাথে পত্রিকাকেই মনে হয় মানুষ এখন বেশি চেনেন। যদি বলি দৈনিক করতোয়া আমাদের সমাজের দর্পণ, দৈনিক করতোয়া আমাদের অভিভাবক, দৈনিক করতোয়া আমাদের দিক নির্দেশক তাহলে কোনোক্রমেই ভুল হবে না। বিভিন্ন টেলিভিশনের সংবাদ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে সকালের শুরুতে বা রাতে পরের দিনের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন খবরের যখন বিশ্লেষণ হয় বিভিন্ন পত্রিকা নিয়ে, তখন অনেকগুলি পত্রিকার মাঝে দৈনিক করতোয়া দেখে মনটাই জুড়ে যায়। আমার উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্বকারী করতোয়া পত্রিকাটি এখন সারা বাংলাদেশে পৌঁছে যাচ্ছে এবং সারা দেশের খবরও প্রচার করছে। তাই দৈনিক করতোয়ার যে কোনো সফলতা মানে আমাদেরও সফলতা। আমি মনে করি পাঠক হিসেবে বা উত্তরের মানুষ হিসেবে গর্বের বা অহংকারের ভাগিদার আমি কেন, এ অহংকার সকলের । 


লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা লেখক ফোরাম।  
০১৭১১-০৬৬৯৩৮

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179717