মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুরোপুরি বাতিল করে নতুন ইতিহাস গড়েছে লেবানন। মঙ্গলবার দেশটির সংসদ কয়েক দফা সংশোধনের পর মৃত্যুদণ্ড বিলোপসংক্রান্ত একটি বিল পাস করেছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা প্রথম দেশ হলো লেবানন।
সংসদের স্পিকারের কার্যালয় জানিয়েছে, ১২৮ সদস্যের সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্যরা এর বিরোধিতা করেছেন।
সংসদে বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার মৃত্যুদণ্ড বাতিলকে দেশের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন আইনে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
লেবাননে ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ থাকলেও আদালতগুলো পরবর্তী সময়ে কয়েক ডজন মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। বিচার মন্ত্রণালয়ের কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ নাগাদ দেশটিতে ৮৫ জন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি ছিলেন।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক হেবা মোরায়েফ এটিকে লেবাননের জন্য ‘বিশাল মাইলফলক’ ও ‘মানবাধিকারের বড় বিজয়’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, দুই দশকের বেশি সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ থাকার পর নতুন আইন সেই অনিশ্চিত বিরতিকে স্থায়ী আইনি সুরক্ষায় রূপ দিয়েছে এবং জীবনের অধিকারকে আরও শক্তিশালী করবে।
তবে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ড কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কয়েকজন আইনপ্রণেতাও নতুন শাস্তির শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অর্থনৈতিক সংকট, সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও কারাগারের সক্ষমতার অভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেবাননে সশ্রম কারাদণ্ডও খুব কম কার্যকর হয়েছে।
এদিকে, মৃত্যুদণ্ড বিলোপের সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ১৯৯০ সালে ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়ে আলোচনা করছে লেবাননের সংসদ। প্রস্তাবিত আইনে সংঘাত বা সহিংস অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের সাজা কমানো বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে হামলায় নিহত সেনা ও সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যরা এর বিরোধিতা করছেন। তাদের কয়েকজন জানিয়েছেন, স্বজনদের হত্যাকারীদের সাজা কমানোর পরিবর্তে তারা মৃত্যুদণ্ডই দেখতে চেয়েছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179670