নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় ঢাবি ছাত্রদল
ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এ খবরে ক্যাম্পাসে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। পদপ্রত্যাশী নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ নেতাকর্মীরাও নতুন কমিটিতে কারা স্থান পাচ্ছেন, তা নিয়ে আগ্রহী ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির মেয়াদ এক বছর। সে অনুযায়ী বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো দ্রুত পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এর ধারাবাহিকতায় ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তুতিও জোরদার হয়েছে।
২০২৪ সালের ১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরবর্তীতে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাড়ে তিন মাস আগে, গত ১৪ নভেম্বর ২৪২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘ সময় পর নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ইতোমধ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় বেশ কয়েকজন নেতার নাম উঠে এসেছে। দলীয় সূত্র জানায়, সম্ভাব্য তালিকায় ২০১৩—১৪, ২০১৪—১৫ এবং ২০১৫—১৬ সেশনের নেতারা বেশি আলোচনায় রয়েছেন।
২০১৩—১৪ সেশন থেকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন ঢাবি ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান।
২০১৪—১৫ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম কাউসার, সাইফ খান এবং ফেরদৌস আলম।
এছাড়া ২০১৫—১৬ সেশন থেকেও কয়েকজন নেতা সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, বজলুর রহমান বিজয় এবং ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী
অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত নবীন সেশন থেকেও কয়েকজন নেতা নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন। ২০১৬—১৭ সেশন থেকে ঢাবি ছাত্রদলের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জিসান এবং প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসানের নাম শোনা যাচ্ছে।
এছাড়া আরো কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক, ও ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ ।
যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী নেতৃত্ব হতে হবে মেধাবী, সৎ, সাহসী ও আদর্শিক। যারা ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার, গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাহসী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে তারাই হবে আগামী দিনের প্রকৃত ছাত্রনেতৃত্ব।
মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক বলেন বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির আতুরঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি হবে এই প্রত্যাশা। যারা শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার প্রতিফলনের মাধ্যমের সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে ভূমিকা রাখতে পারবে তাদের নিয়েই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হোক।
যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী নেতৃত্ব হতে হবে মেধাবী, সৎ, সাহসী ও আদর্শিক। যারা ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার, গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাহসী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে তারাই হবে আগামী দিনের প্রকৃত ছাত্রনেতৃত্ব।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, জনপ্রিয়তা, শিক্ষার্থীদের চাহিদা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি নিষ্ঠা—সবকিছু বিবেচনা করেই নতুন কমিটি গঠন করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ‘সুপার ফাইভ’—এ থাকা এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি একসঙ্গে ঘোষণা করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিগত কঠিন সময়ে যারা সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদেরই নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, এবারের নেতৃত্ব নির্বাচনে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থী ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমার কাছে অফিসিয়ালি কমিটির তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে। এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179563