সংস্কার হলে অলি আহমদ নিশ্চিতভাবে রাষ্ট্রপতি হতেন : হামিদুর রহমান

সংস্কার হলে অলি আহমদ নিশ্চিতভাবে রাষ্ট্রপতি হতেন : হামিদুর রহমান

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে সংসদে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে জামায়াত জোটের প্রার্থী এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বিজয়ী হতেন বলে মন্তব্য করেছেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তা সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন ফরম নেওয়ার পর এ মন্তব্য করেন তিনি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যদি সংস্কার হতো কর্নেল (অব.) অলি নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হতেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হতেন। এই সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। সেই জায়গাটা বিএনপির দ্বিচারিতা এবং তাদের সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতা না থাকার কারণে জাতি এখান থেকে বঞ্চিত হলো। একজন দক্ষ যোগ্য লোকের সার্ভিস থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হলো।

নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিজয়ী হবে, তারপরও জামায়াত জোট কি কারণে প্রার্থী দিল? এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান বলেন, এখানে জয়-পরাজয় বিষয় না। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা সামনে নিয়ে আসছি। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে রাষ্ট্রের সর্বস্তরের রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থার নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনা। এখানে যদিও প্রতিনিধি সেভাবে না, রাষ্ট্রের তো প্রধান ব্যক্তি, পদ মর্যাদা সম্পন্ন, রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ। এখানেও যদি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই, সুস্থ ধারার রাজনীতিকে নিয়ে যেতে চাই। দেশকে পরিচালনা করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাবনার জায়গা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার হয়ত বলতে পারেন সেই সম্ভাবনাটা তো নেই। অর্থাৎ একানব্বইয়ে ভোটার সংখ্যার হিসাব-নিকাশে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ মেজোরিটি ছিল না। আমরা সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সেবার সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিলাম। সেখানে সব দল বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের প্রার্থী পরাজিত হতো। সেই সম্ভাবনা থেকে একানব্বইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা তৈরি হয়েছিল।

এইবার সেই সম্ভাবনা না থাকলেও জামায়াতের জোটের মনোনয়ন সংগ্রহ করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতাটা করেছে সেটা জাতির সামনে আনতে চাই। গণভোটের রায়টা বিএনপি বাস্তবায়ন করেনি। সেটা বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের মধ্যেই চলে আসত। এখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। তিনি বলেন, এ রাষ্ট্রের ধাপে ধাপে যে বাধা, মানুষের অধিকার যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এটাকে আমরা উঠিয়ে দিতে চাই। এজন্য আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। সংসদেও বলেছি, সংসদের বাইরে আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

সংস্কার বাস্তবায়ন না করার প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করে হামিদুর রহমান বলেন, এখানে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না। যদি ভোট দিতে পারতেন, আমাদের প্রার্থী দিয়েছি একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। জাতির পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিরা একটা যোগ্য প্রার্থী এখানে পেতেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179442