চার বছরের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৬ শতাংশ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২ সালে রেকর্ড ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এরপর টানা চার বছর কমতে কমতে ২০২৬ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে। ফলে গত চার বছরের মধ্যে এবারই সর্বনিম্নসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। শুধু ২০২২ সালের তুলনায় নয়, গত এক বছরের ব্যবধানেও এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। আর ২০২২ সালের রেকর্ড সংখ্যার তুলনায় এবার কমেছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৯২৬ জন।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা ফলাফল হস্তান্তরের পর বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ফলাফলের সার্বিক তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।
চার বছরে অর্ধেকেরও বেশি কমেছে জিপিএ-৫ : জিপিএ-৫ পাওয়ার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সাল ছিল ব্যতিক্রমী। ওই বছর ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট পায়, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছিল ৮৬ হাজার ২৬২ জন। তবে পরের বছর থেকেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কমে যায় ৮৬ হাজার ২৪ জন। ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জনে। এরপর ২০২৫ সালে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। ওই বছর জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সর্বশেষ ২০২৬ সালে এ সংখ্যা আরও কমে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে নেমেছে। অর্থাৎ ২০২২ সালের রেকর্ডের তুলনায় চার বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৬ শতাংশেরও বেশি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179426