যশোরের অভয়নগরে টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় খামারে ৪০০ মুরগির মৃত্যু
যশোরের অভয়নগরে টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় একটি পোলট্রি খামারের চার শতাধিক মুরগি মারা গেছে।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুইকরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খামারটির উদ্যোক্তা যমজ ভাই মো. হাসান ও মো. হোসেন। বেকারত্ব ঘোচাতে ঋণ নিয়ে তারা ২০২৩ সালে খামারটি গড়ে তুলেছিলেন। মুরগি বিক্রির ঠিক আগে এতগুলো মুরগি মারা যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
হাসান ও হোসেন বুইকরা গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও মরজিনা বেগম দম্পতির সন্তান। তাদের বাবা আগে দিনমজুরি করতেন। অর্থাভাবে সন্তানদের বেশি দূর পড়াশোনা করাতে পারেননি। হাসান আকিজ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ডিপ্লোমা করেছেন। হোসেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে সম্মান তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়েছেন। অনেক চেষ্টা করেও তারা চাকরি পাননি।
২০২৩ সালে একটি এনজিও থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পোলট্রি খামার শুরু করেন দুই ভাই। বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় ২৫ শতাংশ জমিতে খামারটি গড়ে তোলেন তারা। পরিবারের সদস্যরাও খামারের কাজে যুক্ত।
খামারটিতে গত শুক্রবার পর্যন্ত নানা বয়সি প্রায় আড়াই হাজার মুরগি ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি কিছুদিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বিক্রির উপযোগী চার শতাধিক মুরগি মারা যায় বলে জানান হাসান।
হাসান বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমরা ধারদেনা করে দুই ভাই খামারটি করেছি। এবার মুরগি বিক্রির সময় হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম, বিক্রি করে সব দেনা পরিশোধ করব। কিন্তু বিদ্যুতের কারণে সব শেষ হয়ে গেল।’
হাসান জানান, মুরগির খাবার ও ওষুধের দোকানে বাকি এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাদের প্রায় সোয়া লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। এখন কীভাবে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
নওয়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডিজিএম সনজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, শুক্রবার রাতে উপজেলার সরখোলা গ্রামে তারের ওপর একটি নারিকেলগাছ পড়ে যায়। এতে একটি তার ছিঁড়ে গিয়ে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। রাতে ঘটনা ঘটায় তখন তা মেরামত করা সম্ভব হয়নি। গতকাল সকালে লাইনটি ঠিক করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179354