উত্তরবঙ্গের সুস্থধারার শ্রেষ্ট সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জোতদার বাউল মুকুল সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর দীর্ঘ ৩৫ বছরের পথচলা
উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘জোতদার বাউল মুকুল সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ আজ থেকে ৩৫ বছর আগে এলাকারই স্বনামধন্য জোতদার নবির উদ্দিন প্রামানিকের ২য় পুত্র সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জোতদার এম. নুরুজ্জামান বাদল ১৯৯৩ সালে গ্রাম বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলোর জন্য প্রতিষ্ঠা করেন।
সে থেকে আজ অবধি প্রতিষ্ঠান হাটি-হাটি, পা-পা করে ৩৫ বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মাস ব্যাপী, ১৫ দিন ব্যাপী এবং সাত দিন ব্যাপী বিভিন্ন ধরনের সুস্থধারার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মাসব্যাপী সার্কাস, সামাজিক যাত্রাপালা, পরিবারের সকল সদস্যদের একসঙ্গে দেখার মতো সুস্থধারার নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং লটারীর আয়োজনের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু হয়। সে সময় দেশের প্রথমসারির অভিনেতা/অভিনেত্রীদের সমন্বয়ে এসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যেমন- আহমেদ শরীফ, জাম্বু, শাহীন আলম, টেলিসামাদ, কাংগালিনি সুফিয়া, আ. বারেক, আবুল আব্বাসী, মনোয়ারা, রহিমা, সংস্কৃতিসেবক তারাজুল ইসলাম, তৌফিকুল ইসলাম, রুবেল, পরিমল, রাসেল, বিপাশা রানী, বদিউজ্জামান, নুরজাহান বেগম, অনিল চন্দ্র, লিপি ইসলাম, বাউল মুকুল, সুকুমার প্রমুখ শিল্পীদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
এতে গ্রাম বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো যারা শহরের চাকচিক্য পরিবেশের অধিক খরচের অনুষ্ঠানগুলো দেখতে পারতেন না-সে সব দর্শকবৃন্দ গ্রামের এ শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক সংগঠনে এসে অনুষ্ঠান উপভোগ করে থাকতেন। আজও তারা এ প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান উপভোগ করে চলেছে। সোনাতলার প্রাণকেন্দ্র ভেলুরপাড়ার হলিদাবগায় প্রতিষ্ঠানটি হওয়ায় এখানে প্রতিনিয়ত সংস্কৃতিপ্রেমী প্রচুর দর্শকশ্রোতা এসে অনুষ্ঠান উপভোগ করে থাকেন। এখানেই জন্মগ্রহণ করেছেন এলাকার বিখ্যাত জোতদার কাচু প্রামানিক, দেওয়ানু প্রামানিক এবং নবির উদ্দিন প্রামানিক। মনিষীদের মধ্য রয়েছেন-স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. এনামুল হক, বুদ্ধিজীবী ফজলার রহমান প্রামানিক (বাচ্চু), স্বাধীন বাংলার প্রথম ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শামছুর রহমান সরকার, ডা. হাসেন আলী মন্ডল, এমপি হাছেন আলী সরকার প্রমুক ক্ষণজন্মা ব্যক্তির। এলাকাটি অনেক আগে থেকেই প্রসিদ্ধ ছিলো।
পরবর্তীতে ড. এনামুল হক কলেজ, এনায়েত আলী হাই স্কুল, হলিদাবগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (যার ৬৬ শতাংশ জমিই দিয়েছেন জোতদার দেওয়ানু প্রামানিক)। এ পরিবারেরই একজন সদস্য জোতদার এটিএম গোলাম মোস্তফা (জোতদার বাউল মুকুল) এরই নামে শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ১০/১৫ জন বিখ্যাত শিল্পী, কলা কুশলী, গীতিকার, সুরকার প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের জাতীয় সংস্কৃতিতে অবদান রেখে চলেছে। তাদের মধ্য বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী বাউল সুকুমার, লিজা আখতার, শাকিলা, জনি, পূজারানী, আরতি রানী সেন, মিলনসহ অসংখ্য শিল্পী তাদের জীবন জীবিকার পথ করে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে: যার নামে প্রতিষ্ঠানটি নামকরণ করা হয়েছে তাহার বক্ত্য নিম্নরূপ: জোতদার বাউল মুকুল: আমার আশা আমি গ্রাম বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া অবহেলিত মানুষের জন্য আমৃত্যু সুস্থধারার বিনোদন ও সেবা করে যাবো, আজ প্রায় ৪০ বছর ধরে সেবা দিয়ে যাচ্ছি-মহান আল্লাহ যদি আমাকে আরও কিছুদিন বেঁচে রাখেন আগামীতে আমি নিরলসভাবে তাদের সামান্যতম বিনোদন দিতে এতোটুকু পিছপা হবো না ইনশাআল্লাহ-যদি প্রশাসন ও সরকারের সার্বিক সহযোগিতা পাই-তবে গ্রাম বাংলার এ অবহেলিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে আগের মতোই সেবা দিয়ে যাবো।
প্রতিষ্ঠানটি গত ২ বছর াাগে ৩৩ বছর পূর্তিতে গোটা সোনাতলা উপজেলা ব্যাপী ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দিনব্যাপী ট্রাকযোগে শতাধিক নিজস্ব শিল্পী নিয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তি জোতদার এম. নুরুজ্জামান বাদল। সাংবাদিক ভাইদের কাছে অনুরোধ আপনারা সুস্থধারার এ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকান্ড আরো ভালোভাবে জাতির কাছে তুলে ধরবেন এ প্রত্যাশা করি। গ্রাম বাংলার এ ধরণের সুস্থধারার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতা সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি সার্বিক সহযোগিতা উপজেলাবাসী প্রত্যাশা করেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179348