ছয় মাসে পারিবারিক কলহে খুন ৩ শতাধিক নারী

ছয় মাসে পারিবারিক কলহে খুন ৩ শতাধিক নারী

করতোয়া ডেস্ক : পারিবারিক কলহ থেকে বিরোধ, আর সেই বিরোধই গড়াচ্ছে হত্যাকান্ডে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এমন ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ শতাধিক নারী। রাজধানীতে সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পর নারীর নিরাপত্তা ও পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

সম্প্রতি রাজধানীর দক্ষিণখান ও কলাবাগানে হত্যাকান্ডের পর এ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও পারিবারিক কলহের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে। নিহতের বোনের দাবি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। খোলামেলা পরিবেশের ওই বাসায় কীভাবে হত্যাকারী প্রবেশ করল এবং কীভাবে হত্যাকান্ড ঘটানো হলো এসব বিষয়সহ আরও বেশ কিছু কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যাকান্ডের সঙ্গে নিহতের স্বামীর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। 

নিহতের বোন সারাহ সুলতানা পলি বলেন, আমার বোনের জীবন শেষ করতে তিলে তিলে ধরতে হইবো। কিন্তু একবারে শেষ কইরা ফালাইছে।

ডিএমপির ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, আমাদের কাছে প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে জুতার ছাপটা ভেতরে কেন, বাইরে কেন জুতার ছাপ নাই। জুতার ছাপটা উনারই, উনার হাজবেন্ডের। 

এক সপ্তাহ না যেতেই রাজধানীর কলাবাগানেও পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর হাতে খুন হন স্ত্রী ও শাশুড়ি। হত্যাকান্ডের পর স্বামী শিপন থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পারিবারিক সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ শতাধিক নারী। আহত হয়েছেন ২ শতাধিক। এ সময়ে আত্মহত্যা করেছেন ১৪৭ জন এবং অ্যাসিড সহিংসতার শিকার হয়েছেন আরও ৪ জন। সব মিলিয়ে এ সময়ে অন্তত ১ হাজার ৬২১টি নারী নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে।

গত বছরের তুলনায় চলতি বছর এসব ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক পারিবারিক হত্যাকান্ড ও সহিংসতার ঘটনায় অনেক নারীই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন নারী বলেন, কথা শুনলেই তো ডরাই। স্বামীর কাছে যদি নিরাপত্তাই না থাকে, তাহলে নারীরা কার কাছে নিরাপত্তা পাবে?

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় আইনি প্রতিকার চাওয়া হয় না। ফলে ধীরে ধীরে সহিংসতা বাড়তে বাড়তে হত্যাকান্ডে রূপ নেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, দেখবেন, যারা ভুক্তভোগী হন, তারা খুব বেশি থানায় গিয়ে কোনো কমপ্লেইন্ট বা রিপোর্ট করেন না। আমার মনে হয়, সেগুলো ইন্টারনালি সলভ না করে যেভাবে ফরমাল ওয়েতে সলভ করা যায়, সেগুলো অ্যাড্রেস করা উচিত। এগুলো না করার কারণেই এটা বাড়তেছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের পরামর্শ সামাজিক কাউন্সেলিংয়ের ওপর জোর দেয়া। সবকিছু আইন দিয়ে সমাধান করা যায় না বলে মনে করেন বাহিনীর এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে যে অপরাধগুলো হয়, এটার জন্য আমরা কমিউনিটি এবং বিট পুলিশিং জোরদার করেছি। জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য এবং এই লক্ষ্যে কাজ করার জন্য আমরা আমাদের প্রত্যেকটা ইউনিটকে নির্দেশনা দিচ্ছি। শুধু পারিবারিক হত্যা ও সহিংসতা নয়, রাজনৈতিক হত্যাকান্ড নিয়েও জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179293