রিমির রঙিন ছাতা
রিমির বয়স তিন বছর, এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি। কিন্তু এইটুকু বয়সেই খাতা পেন্সিল, স্কুল ব্যাগ বই এবং ছাতার প্রতি ওর দারুণ ঝোঁক! ভাইয়া ইমনের এই সমস্ত জিনিস নিয়ে রিমি স্কুলে যাওয়ার, হোম ওয়ার্ক করার খেলা খেলে! মায়ের মুখে মুখে ছড়া কেটে কেটে অনেক ছড়া ওর ঠোঁটস্থ হয়ে গেছে। ও যখন খেলা করে তখন নিজে নিজেই সেই সব ছড়া পড়ে, যেমন- খোকন খোকন ডাক পারি / খোকন মোদের কার বাড়ি, কিম্বা আয় আয় টিয়ে নায়ে ভরা দিয়ে, আবার অ ই ঈ উ অ, আ ই ঈ আপন মনে একা একাই পড়ে!
রিমির খেলাই যেন লেখাপড়া কেন্দ্রিক! মাঝে মাঝে আবার স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ভাইয়ার ছাতাটা হাতে নিয়ে মাকে বলে- মা টিফিন(টিফিন বক্স) বক্সটা ব্যাগে ভরে দাও তো, আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে। মা ছোট্ট রিমির এই সব কাজকর্ম দেখে মিটি মিটি হাসে আর বলে ঠিক আছে আম্মু আমি এখনই দিচ্ছি। এই বলে মেয়ের সাথে ক্ষণিক খেলায় মাতে। মা ম্যাডাম সাজে আর রিমি হয় ছাত্রী। ছোট্ট রিমির গানের গলাও বেশ সুন্দর! হাতে কিছু একটা নিয়ে মাইক্রোফোন বানিয়ে কখনো কখনো আবার গান গায়! বাবা-মা ভাইয়া হয় দর্শক, করতালি দিয়ে অভিবাদন জানায় রিমিকে।
রিমির উচ্ছল উজ্জল প্রাণবন্ত খেলাধূলা চঞ্চলতা সারাক্ষণ মাতিয়ে রাখে ঘর! কিন্তু বিপত্তি বাঁধে একদিন খেলতে গিয়ে। সেদিন সকালে খ্বু বৃষ্টি ছিলো তাই ইমনকে ছাতা নিয়ে স্কুলে যেতে হলো। রিমি ঘুম থেকে উঠে খেলতে গিয়ে দেখলো ছাতা নেই! তাই রিমির খেলাটাও যেন আর জমলো না। ছাতার জন্য রিমি কান্নাকাটি শুরু করলো। রিমির কান্না দেখে বাবা বললো- ঠিক আছে সোনা, তুমি কেঁদো না, আমি আজকেই তোমার জন্য একটা সুন্দর নতুন ছাতা কিনে নিয়ে আসবো! বাবা ফ্রেশ হয়ে মেয়েকে সাথে নিয়ে মার্কেটে চলে গেলেন। দোকানে গিয়ে রিমিকে ওর পছন্দ মতো একটা রঙিন ছাতা কিনে দিলেন। বাবা মেয়ে দুজনেই হাসি মুখে বাড়ি ফিরলো। রিমির মিষ্টি হাসি আর রঙিন ছাতার রঙে যেন রঙিন হয়ে উঠলো বাবা মায়ের মন!
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179182