নানা সমস্যায় জর্জরিত রাণীনগরের বৃহত্তম চকাদিন মাদ্রাসা-এতিমখানা

নানা সমস্যায় জর্জরিত রাণীনগরের বৃহত্তম চকাদিন মাদ্রাসা-এতিমখানা

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় এতিমখানা হচ্ছে চকাদিন ও চককুতুব সুবহানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা। ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হওয়ার পর থেকে দানশীল ব্যক্তিদের দানের উপর পরিচালিত হয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরণের কোন সহযোগিতা এখন পর্যন্ত জোটেনি। তবে সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় মাদ্রাসার পূর্বদিকের নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ হওয়ার পর অনেকটাই নিরাপদ হয়েছে প্রায় ৩শতাধিক শিক্ষার্থীর এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম মুফতি মো: আব্দুর রউফ জানান, বর্তমানে মাদ্রাসায় আবাসিক, এতিম ও দোস্ত মিলে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী ইসলামিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ৭০জন এতিম শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে ২২জন ও কর্মচারী হিসেবে ৪জন ব্যক্তি কর্মরত রয়েছেন। মহান আল্লাহর মর্জিতে এখন পর্যন্ত আল্লাহর প্রিয় দানশীল ব্যক্তি ও স্থানীয়দের দান, সাহায্য ও সহযোগিতায় কষ্টের মধ্য দিয়ে এই বৃহৎ পরিবার নিয়ে দিন পাড়ি দেওয়া হচ্ছে।

এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সামান্য সহযোগিতা পাওয়া যায় তা প্রয়োজনের চাইতে খুবই অপ্রতুল। তিনি আরো জানান, মাদ্রাসার অবকাঠামোগত অনেক কাজ এখনোও বাকি আছে। বিভিন্ন ব্যক্তিদের দানের মাধ্যমে মাদ্রাসার উত্তর-পশ্চিম দিকে দোতলা একটি ভবন নির্মাণ হওয়ার কারণে আবাসিক সংকট কিছুটা লাঘব হয়েছে। তবে এখনো অনেক শিক্ষার্থীকে আধুনিক আবাসন সংকটের কারণে টিনের পুরাতন কক্ষে বসবাস করতে হচ্ছে।

এছাড়া মাদ্রাসার ভিতর একটি বহুতল মসজিদ নির্মাণের কাজ আর্থিক সংকটের কারণে অনেক বছর হলো পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাকিবুল হাসান জানান, বৃহত্তম এ প্রতিষ্ঠানের নানা সমস্যার কথা আমি জেনেছি।

বিভিন্ন সময় সরকারি বিভিন্ন সহায়তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া মাদ্রাসার পশ্চিম দিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে সুযোগ পেলেই মাদ্রাসার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179123