বগুড়ায় করতোয়া নদী ঘিরে ট্রিপল-রুট মহাপরিকল্পনা, রূপ নেবে বাংলার ভেনিসে
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া মহানগরের বহুল কাঙ্খিত যানজট নিরসন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনয়ন এবং নাগরিকদের জীবনমান এক ধাপ এগিয়ে নিতে করতোয়া নদীকে কেন্দ্র করে এক যুগান্তকারী সুপারিশ প্রস্তাব করেছে একটি গবেষণা কেন্দ্র। গবেষকদের মতে, করতোয়া নদীর নাব্য ফিরিয়ে এনে পূর্ব পাড়ে নতুন সড়কের পাশাপাশি বোট সার্ভিস চালু করা হলে এটি বগুড়াকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই নগরীতে পরিণত করবে।
‘টেকসই জীবনমান গবেষণা কেন্দ্র’র গবেষকদের মতে, বর্তমানে বগুড়া মহানগরের উত্তর-দক্ষিণ বরাবরের একমাত্র ভরসা বনানী-মাটিডালি সড়ক, যার ওপর প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, শহর বরাবর করতোয়া নদীর প্রায় ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যকে কাজে লাগিয়ে নদীকেন্দ্রিক নৌ-পথ এবং নদীর দুই পাড়ে দুটি নতুন সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব। এর ফলে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর চলাচলের জন্য তিনটি পৃথক রুট তৈরি হবে।
জরুরি যাতায়াতে নাগরিকরা যানজট এড়িয়ে নৌ-পথ ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে, করতোয়ার পূর্ব পাড় দিয়ে সহজেই পূর্ব বগুড়ার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত সুগম হবে, যা বিদ্যমান মূল সড়কের ওপর যাতায়াতের চাপ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে সৃষ্টি হবে অভূতপূর্ব গতিশীলতা। নতুন বাণিজ্যিক রুট হিসেবে নদীর এক কিলোমিটার পরপর দৃষ্টিনন্দন ঘাট ও বোট স্টপেজ তৈরি হলে এসব পয়েন্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে নতুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বোট সার্ভিস পরিচালনা, নৌ-রক্ষণাবেক্ষণ, ঘাট ব্যবস্থাপনা ও পর্যটন খাতকে ঘিরে হাজারও বেকার যুবকের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। নৌ-পথে তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত পণ্য আনা-নেওয়া সহজ হবে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের পরিবহন ব্যয় বহুগুণ কমিয়ে দেবে।
মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিদ্যমান বনানী-মাটিডালি সড়ক এবং পূর্ব-পশ্চিম বরাবর সংযোগকারী তিনটি সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। চার লেনের মূল সড়কে কোনো ধরনের জটলা ছাড়াই দূর দূরান্তের পরিবহন দ্রুত পারাপার হতে পারবে, আর কম দূরত্বের পরিবহনগুলোর জন্য থাকবে আলাদা ফিডার সার্ভিস লেন। এতে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও আধুনিক হবে।
নদীতে সারা বছর পানি ধরে রাখতে নদী গবেষকদের পরামর্শে স্লুইস গেট বা ব্যারেজ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হলে নদী তার নাব্য ফেরত পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
করতোয়ার দুই পাড়ের সবুজায়ন এবং নদীতে বোট সার্ভিস চালুর মাধ্যমে পুরো মহানগরটি ইতালির বিখ্যাত ভেনিস নগরীর মতো এক অনন্য ও নান্দনিক রূপ লাভ করবে। কর্মব্যস্ত নাগরিকরা যাতায়াতের পাশাপাশি পাবেন মনোরম ও সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, যা মহানগরের মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রার মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179121