সময়ের আগেই কি ফরজ নামাজ পড়া যায়?

সময়ের আগেই কি ফরজ নামাজ পড়া যায়?

প্রশ্ন: সফর, কাজ বা বিশেষ ব্যস্ততার কারণে আমি যদি নিশ্চিতভাবে জানি যে আসর-মাগরিবের নামাজ নির্ধারিত সময়ে পড়ত পারবো না, তাহলে কি ফরজ বা জোহরর সময় আসর ও মাগরিবের নামাজ অগ্রিম আদায় করতে পারবো?

উত্তর: ফরজ নামাজ ওয়াক্ত হওয়ার আগে আদায় করা যায় না। পাঁচ ওয়াক্তের  ফরজ নামাজই নির্ধারিত ওয়াক্তে আদায় করতে হয়। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সুরা নিসা: ১০৩)

তাই আসরের ওয়াক্ত হওয়ার আগে আসরের নামাজ আদায় করা যাবে না। মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার আগে মাগরিবের নামাজ আদায় করা যাবে না। আপনাকে যে কোনো অবস্থায় যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে নির্দিষ্ট ওয়াক্তে নামাজ আদায় করার। এরপরও যদি কোনো নামাজ নির্দিষ্ট ওয়াক্তে আদায় করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তীতে ওই নামাজের কাজা আদায় করে নিতে হবে।

আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা নামাজের সময় ঘুমিয়ে থাকলে, যখনই নামাজের কথা স্মরণ হবে, নামাজ আদায় করে নেবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার স্মরণে নামাজ আদায় কর। (সুরা ত্বহা: ১৪) (সহিহ মুসলিম: ৬৮১)

কাজা নামাজ আদায়ের পদ্ধতি

নিষিদ্ধ সময়গুলো ছাড়া দিনের যে কোনো সময় কাজা নামাজের জন্য পবিত্রতা ও নামাজের অন্যান্য শর্ত পূরণ করে দাঁড়াবেন। যে ওয়াক্তের কাজা নামাজ আদায় করতে চান, ওই ওয়াক্তের কাজা আদায়ের নিয়ত করবেন এবং আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করবেন। তারপর ওয়াক্তের নামাজ যেভাবে আদায় করেন, সেভাবেই কাজা নামাজ আদায় করবেন।

যেমন আপনার যদি ইশার নামাজ নামাজ কাজা হয়ে যায় অর্থাৎ মাগরিবের সময় শেষ হয়ে ইশার সময় শুরু হওয়ার পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়ে আপনি যদি ইশার নামাজ পড়তে না পারেন, তাহলে সুবহে সাদিকের পর ফজরের নামাজের আগেই পবিত্রতার সঙ্গে নামাজের জন্য দাঁড়াবেন, ইশার কাজা আদায়ের নিয়ত করবেন, ‘আমি গত রাতের ইশার ফরজ নামাজের কাজা আদায় করছি’ তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করবেন এবং নির্ধারিত নিয়মে চার রাকাত নামাজ আদায় করবেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179079