ভারতের আসামে বন্যায় শতাধিক প্রাণহানি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আসাম রাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারে বন্যার ফলে অনেক গ্রাম কাদার নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নদ-নদীর পানি বেড়ে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে।
বন্যার পানিতে ১৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি তলিয়ে গেছে; এই আয়তন প্যারিস শহরের আয়তনের প্রায় দেড় গুণ।
এএফপি-র একজন সাংবাদিক সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা শিবসাগরে অর্ধ-নিমজ্জিত বাড়িঘর, উপড়ে পড়া গাছপালা এবং কাদার নিচে চাপা পড়া যানবাহন দেখেছেন। এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক ভিডিও বার্তায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়। বন্যার পানি থেকে নিজের পোষা কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল। তিনি লিখেছেন, কোনো বাবা-মাকেই যেন কখনো তাদের সন্তানকে শেষ বিদায় জানাতে না হয়।
ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বৃহস্পতিবার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এতটাই বিশাল যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে।উপমহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলের মতোই আসামেও জুন-সেপ্টেম্বর মৌসুমি বায়ুর সময় বন্যা একটি সাধারণ ঘটনা। এ সময় ভারতের বৃহত্তম নদী ব্রহ্মপুত্র এবং এর অনেক উপনদীর পানি উপচে পড়ে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে এই দুর্যোগের হার, তীব্রতা ও প্রভাব বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার জন্য প্রতিবেশী রাজ্য নাগাল্যান্ডে অবৈধ কয়লা উত্তোলনকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, এর ফলে এমন সব এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যেখানে আগে কখনো বন্যা হতো না।
মুখ্যমন্ত্রী শর্মা জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ‘ক্লাইমেট ট্রেন্ডস’ নামের একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ জানিয়েছে, রাজ্যে বন্যার তীব্রতা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, নদীর গতিপ্রকৃতির পরিবর্তন এবং মানুষের বসতি ও কার্যক্রমের বিস্তার। যার ফলে বন্যা আরও ঘনঘন, জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
সূত্র: এএফপি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179057