অস্ত্রভান্ডার নিয়ে তথ্য ফাঁসকারীদের কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতির খবর নাকচ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তথ্য ফাঁসের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ধরনের অস্ত্রের মজুত যথেষ্ট। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহও অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর ট্রাম্পের এ মন্তব্য আসে। একাধিক যুদ্ধবিরতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংঘাত পুরোপুরি বন্ধে কোনো সমঝোতা হয়নি।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’সহ সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো ঘাটতি নেই।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ দুটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করেছে। একইভাবে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সম্ভাব্য অস্ত্রসংকট নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন ট্রাম্প।
এসব প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, সামরিক তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড চাওয়া হবে। পরে আরেক পোস্টে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া সাংবাদিকতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।
একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, তার কাজে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের সুনির্দিষ্ট তথ্য গোপনীয় হলেও উন্মুক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ দেশটির হাতে ৭৫৯ থেকে ৮২৭টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। যুদ্ধ শুরুর আগে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৩০টি।
প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ানের মতে, যুক্তরাষ্ট্র তার থাড (টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাশাপাশি ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে। ফলে বিদ্যমান মজুত সংরক্ষণে পেন্টাগন এখন আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনের অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের অনুরোধ অনুমোদন দেওয়া একটি বড় সিদ্ধান্ত হবে এবং বিষয়টি এখনো বিবেচনায় রয়েছে।
আধুনিক অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহে দীর্ঘ সময় লাগে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ দ্রুত পুনরায় মজুত করা সহজ নয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো ঘাটতি নেই এবং দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর কাজও চলছে।
এ লক্ষ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি মার্কিন সিনেটের কাছে ৮৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিল চেয়েছেন, যাতে সেনাসদস্যদের বেতন পরিশোধের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ দ্রুত পুনরায় মজুত করা যায়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/179018