বগুড়ার শাজাহানপুরে চক ডাস্টার ছেড়ে ৩৫ বছরের শিক্ষকতার ইতি টানলেন প্রধান শিক্ষক মেরিনা জাহান
শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: মাতৃস্নেহ আর নিজের আচঁলের ছায়ায় অন্যের সন্তানকে আগলে রেখে সারা জীবন ছড়িয়েছেন জ্ঞানের আলো। যার নামের সাথে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ˆশশবের মধুময় স্মৃতি। তিনি হলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ভান্ডারপাইকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেরিনা জাহান।
শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি প্রত্যন্ত পল্লী এলাকায় অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১শে বই মেলা, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, বিজ্ঞান মেলা, বর্ণমালা উৎসব, বই পড়া কর্মসূচি, কারুকলা উৎসব বৃক্ষরোপনসহ নানা সৃজণশীল কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে তার এসব ব্যতিক্রমী কর্মকান্ডের খ্যাতি উপজেলা ও জেলার গন্ডি পেরিয়ে প্রশংসিত হয়েছে দেশব্যাপি| ০৪ আগষ্ট’২৬ শেষ কর্মদিবসের মধ্য দিয়ে সেই গুণী শিক্ষকের ৩৫ বছরের কর্মজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে । এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (০৪ আগষ্ট) দুপুরে নিজ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণি কক্ষে তার সহকর্মিরা আয়োজন করেন অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। কোরআন তেলাওয়াত, মানপত্র ও খোলা চিঠি পাঠ, কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ এবং উপহার সামগ্রি প্রদানের মধ্য দিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশে শেষ হয় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান| মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে বিদায় দেন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সহকার্মিরা| তবে বিদায় বেলাতেও তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষামূলক বই তুলে দিয়ে গেছেন| উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উর্মি তালুকদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহিদ, প্রভাষ চন্দ্র সরকার, আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ইন্সট্রাক্টর মো. মহিদুল হাসান, শাজাহানপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাজেদুর রহমান সবুজ| চাঁচাইতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মেরিনা জাহানের স্বামী মো. রকিব খান খলিল, ছেলে মনন তথাগত, বোহাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, ভান্ডারপাইকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নাজমা খাতুন, বলদিপালান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নাজনীন আক্তারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কোমলমতি শিক্ষার্থীবৃন্দ| সহকর্মিরা জানান, লেখাপড়ায় উৎসাহ বাড়াতে শিক্ষকতার শুরু থেকেই তিনি শিক্ষার্থীদের বই উপহার দিতেন| কর্মজীবনের শেষ দিন পর্যন্তও তা চালিয়ে গেছেন। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজ রাখা, অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং সহকর্মির প্রতি আন্তরিক আচরণ তাকে একজন গুণী মানুষ হিসেবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বৃক্ষ ও প্রকৃতি প্রেমিক হিসেবেও মেরিনা জাহান ছিলেন পরিচিত মুখ। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচিতজনদের হাতে তিনি তুলে দিতেন চারা গাছ| শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ের চারপাশ, রাস্তার ধারে চারাগাছ রোপন করেছেন| বজ্রপাতরোধে রাস্তার পাশে ৫ শতাধিক তালবীজ রোপন করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব এসব কর্মকান্ড তাকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা| উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন মেরিনা জাহান| গতকাল শেষকর্মদিবসের মধ্য দিয়ে তার ৩৫ বছরের কর্মজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে|
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/178846