৩ ঘন্টা অবরুদ্ধের পর শান্তা ফারজানাসহ ৬ জন পুলিশ হেফাজতে

৩ ঘন্টা অবরুদ্ধের পর শান্তা ফারজানাসহ ৬ জন পুলিশ হেফাজতে

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন ধারা বাংলাদেশের ছয় নেতা-কর্মীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে পাহারায় তাদের জরুরি বিভাগ থেকে বের করে পুলিশের গাড়িতে করে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশি হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মন্ডল ও হরিদাস সরকার।

রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রাব্বানী ছয়জনকে আহত অবস্থায় পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল আমিন জানান, ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ছয়জনকে পরে পুলিশের পাহারায় থানায় নেওয়া হয়েছে।

হেফাজতে নেওয়ার সময় নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতা-কর্মীদের ‘ইনকিলাব, ইনকিলাব, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের আহত নেতা-কর্মীরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে জরুরি বিভাগে আবারও সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় হামলার কারণে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে। পরে সেবা চালু হলেও আবার হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানার অভিযোগ, প্রেসক্লাবের সামনে তারা মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন। বক্তব্য চলাকালে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে দলের চেয়ারম্যানসহ ছয়জন আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে গেলে ২০ থেকে ২৫ জন আবারও তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শান্তা ফারজানা বলেন, হামলার পর তারা জরুরি বিভাগের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন এবং চিকিৎসা নেওয়া কিংবা বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। তার অভিযোগ, তিনি ও কয়েকজন নেতা-কর্মী রক্তাক্ত আহত হয়েছেন এবং তার পোশাকও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসের দাবি, শান্তা ফারজানা ও তার সহযোগীরা শহীদ আবু সাঈদকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে উল্লেখ এবং ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রতিবাদ করায় শান্তা ফারজানা, মোমিন মেহেদীসহ ৩০ থেকে ৪০ জন তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন আয়াস। এ ঘটনায় তাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ঘটনাস্থলে থাকা মঞ্চ-২৪-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে কটূক্তি এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে তারা ছাড় দেবেন না। তবে তারা কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করবেন না এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শান্তা ফারজানা ও নতুন ধারা বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মন্ডল রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসও আহত অবস্থায় ছিলেন। সংঘর্ষের পর জরুরি বিভাগের ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে যান। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের কক্ষে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে বৈঠক করেন।

সংঘর্ষের কারণে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/178822