সিলেটে ডিবি পরিচয়ে কিশোরকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, স্থানীয়দের বাধায় ব্যর্থ

সিলেটে ডিবি পরিচয়ে কিশোরকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, স্থানীয়দের বাধায় ব্যর্থ

সিলেট নগরে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিচয়ে এক কিশোরকে জোর করে প্রাইভেটকারে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তবে কিশোরের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এ সময় দুজন পালিয়ে গেলেও গাড়িচালককে আটক করে গণপিটুনি দেন উত্তেজিত জনতা। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ আহত চালক ও কিশোরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে জালালাবাদ থানাধীন মদিনা মার্কেট এলাকার জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এয়ারপোর্ট থানার ছালিয়া এলাকার বাসিন্দা ময়না মিয়ার ছেলে সামাদ (২৬) আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ‘রিফাত অ্যান্ড কোং’ দোকানের সামনে থেকে ইমরান হোসেন (১৯) নামে এক কিশোরকে নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেন।

এরপর প্রাইভেটকারটি সুবিদবাজারের দিকে যাওয়ার সময় ইমরান চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পান। পরে মদিনা মার্কেট এলাকায় গাড়ির গতিরোধ করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত দুজন পালিয়ে যান। তবে চালক সামাদকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা প্রাইভেটকারটিও ভাঙচুর করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত চালক সামাদ এবং ইমরান হোসেনকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে দুজনই সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রণব রায় বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী ও চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভুক্তভোগীকে মারধর করা হয়েছিল। অন্যদিকে চালক গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পালিয়ে যাওয়া দুজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/178768