বিএনপি পুরোনো ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে : ডা. শফিকুর রহমান
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির কর্মকাণ্ডে অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন দমন-পীড়নের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকার পরও বিএনপি এখন বিরোধী মত দমন, দলীয় লোকদের গুরুত্বপূর্ণ নিরপেক্ষ পদে নিয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও চাপ প্রয়োগের পথেই হাঁটছে।
আজ রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘জান দেব, জুলাই দেব না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি ও জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছর নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়ার পরিবর্তে বিএনপি এখন একই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, অতীতে যেমন বিরোধী মত দমনে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও বলপ্রয়োগ করা হত, বর্তমানেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উচিত সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা। অন্যথায় তোষামোদকারীরাই দলটির ক্ষতির কারণ হবে। তিনি সরকারকে জনগণের দেয়া গণভোটের রায় মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদে এ বিষয়ে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও জনগণের দেয়া রায়কে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তার দাবি, গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার পরও সেই জনমতের প্রতিফলন ঘটানো হয়নি, যা জনগণের ইচ্ছার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম দুটি কারণ ছিল বৈষম্য এবং জনগণের ভোটের অধিকার অস্বীকার করা। সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মো. সামসুল আলমের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইতোমধ্যে দাবি করেছেন, সামসুল আলম বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এমন একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেয়ায় ভবিষ্যতের নির্বাচন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এখন আর সচিব হওয়ার জন্য বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন নেই, দলীয় পদ থাকলেই হবে। দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/178503