মৌসুমের শেষ প্রান্তে নওগাঁয় আমের দাম বেড়েছে চার থেকে পাঁচ গুণ
নওগাঁ প্রতিনিধি: দেশের সর্ববৃহৎ আমের মোকাম নওগাঁর সাপাহার আমের বাজারে মৌসুম প্রায় শেষ। অধিকাংশ বাগান ইতোমধ্যে আমশূন্য। কিন্তু ঠিক এই সময়েই নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাজার। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক জাতের আমের দাম ভরা মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে কয়েক গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি চমক দেখাচ্ছে আম্রপালি ও ব্যানানা ম্যাংগো জাতের আম।
ভরা মৌসুমে যে ব্যানানা ম্যাংগো জাতের আম প্রতি মণ ২ হাজার ৮শ’ থেকে ৩ হাজার ৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এখন সেই আমের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া ১ হাজার ৮শ’ থেকে ৩ হাজার ২শ’ টাকা দরের আম্রপালি প্রতি মণ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ।
গতকাল শুক্রবার সাপাহার আমের হাট ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা ব্যাটারিচালিত ভ্যান, শ্যালোচালিত যান ও পিকআপে ক্যারেটভর্তি আম নিয়ে বাজারে আসছেন। যদিও ভরা মৌসুমের তুলনায় আমের পরিমাণ অনেক কম, তবু বাজারে ক্রেতার ভিড় কমেনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকাররা ভালো মানের আম সংগ্রহে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছেন।
ব্যবসায়ীদের হিসাবে, বর্তমানে এই বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হচ্ছে। সাপাহারের আম ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতিবছরই মৌসুমের শেষ দিকে বাগানে আম কমে যায়।
সরবরাহ কমে গেলেও বাজারে ভালো মানের আমের চাহিদা থেকে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ে। তবে এ বছর তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অধিকাংশ জাতের আম আগেভাগেই পেকে যাওয়ায় ভরা মৌসুমে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছিল। তখন দাম ছিল সবচেয়ে কম। এখন সেই অতিরিক্ত সরবরাহ না থাকায় বাজার পুরোপুরি বিক্রেতানির্ভর হয়ে উঠেছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, নওগাঁ বরেন্দ্র অঞ্চলভুক্ত হওয়ায় এখানকার মাটি ও আবহাওয়ার কারণে আমের স্বাদ ও গুণগত মান আলাদা। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। লেট ভ্যারাইটিজ আমের চাষ আরও সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা মৌসুমের শেষেও লাভজনক বাজার ধরতে পারেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নওগাঁর আম এখন দেশজুড়ে ব্র্যান্ডে পরিণত হলেও এখনও বড় আকারের কোল্ড স্টোরেজ, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাত শিল্প, আন্তর্জাতিক মানের গ্রেডিং ও প্যাকেজিং এবং সরাসরি রপ্তানি অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। ফলে মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় অনেক আম কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন চাষিরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে আম সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো, রপ্তানি সহজ করা এবং লেট ভ্যারাইটিজ আমের চাষ আরও সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের সর্ববৃহৎ এই আমের বাজার শুধু মৌসুমেই নয়, বছরের দীর্ঘ সময়জুড়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/178459