তুরস্কের ইউরোফাইটার উৎপাদন শুরুর ঘোষণা যুক্তরাজ্যের

তুরস্কের ইউরোফাইটার উৎপাদন শুরুর ঘোষণা যুক্তরাজ্যের

ইরান যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই তুরস্কের ফরমাশ করা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ যুদ্ধবিমানের উৎপাদন কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বিএই সিস্টেমস’। কোম্পানিটির চলতি বছরের প্রথমার্ধের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালে প্রথম ধাপে বিমানগুলো ইস্তাম্বুলের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

পাশাপাশি বিএই সিস্টেমস যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছ থেকেও একটি চুক্তি পেয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বিমানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সহায়তা সরঞ্জাম এবং সেবা প্রদানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তুরস্ক ২০২১ সালের অক্টোবরে এই বিমানগুলোর জন্য ফরমাশ দিয়েছিল।

 

বিএই সিস্টেমস তাদের অর্ধবার্ষিক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ২০২১ সালের অক্টোবরে ফরমাশ করা তুরস্কের ২০টি টাইফুন বিমানের জন্য প্রশিক্ষণ, সহায়তা সরঞ্জাম এবং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছ থেকে একটি চুক্তি পাওয়া গেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোফাইটার প্রকল্পের অংশীদার দেশগুলোতে ইতোমধ্যেই উৎপাদন কার্যক্রম চলছে এবং ২০৩০ সালে প্রথম বিমান হস্তান্তরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

চুক্তির আওতায় রয়েছে তুর্কি কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা

বিএই সিস্টেমস জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা বিষয়ক এই চুক্তির মূল্য প্রায় ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ড (৩.৩৬ বিলিয়ন ডলার)।

তুরস্ক ও যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। এটি মূলত ২০২৫ সালে সম্মত হওয়া টাইফুন যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র সংক্রান্ত চুক্তিরই একটি সম্প্রসারিত অংশ। এই চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হলো বিএই সিস্টেমস।

 

কোম্পানিটি যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও মেরামতের কাজ করবে।

পাশাপাশি তারা প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তাও প্রদান করবে। বিট্রিশ কোম্পানিটির আশা, যুদ্ধবিমানগুলো পরিষেবায় যুক্ত হওয়ার পর প্রথম তিন বছর এই সহায়তা কার্যক্রম চলবে। এর আওতায় পাইলট, প্রকৌশলী এবং রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ তুরস্ক ও যুক্তরাজ্য একটি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তিতে ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ বহরের জন্য কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

ইউরোফাইটার টাইফুন সরবরাহের সময়সূচি ২০৩২ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত

তুরস্কের নতুন ২০টি যুদ্ধবিমান পর্যায়ক্রমে তুর্কি বিমানবাহিনীতে যুক্ত হবে। ২০৩০ সালে ছয়টি বিমান আসার কথা রয়েছে। এরপর ২০৩১ সালে আসবে আরও আটটি। সবশেষে ২০৩২ সালে আসবে বাকি ছয়টি বিমান, যার মাধ্যমে পুরো অর্ডারের সরবরাহ সম্পন্ন হবে। বিমানগুলো ‘ট্রাঞ্চ ৪’ কনফিগারেশন বা কাঠামো অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। এগুলোর সরবরাহ প্যাকেজে আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমি লক্ষ্যভেদী গোলাবারুদ ও মিশন পড অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসার গুলের জানিয়েছেন, এই প্যাকেজে ‘মিটিওর’ বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ (দৃষ্টিসীমার বাইরের লক্ষ্যভেদী) আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন তুর্কি কর্মীরা

তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের আগস্টে তুর্কি কর্মীরা যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। তারা ইউরোফাইটার টাইফুন পরিচালনার ওপর প্রশিক্ষণ নেবেন। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ১০ জন তুর্কি প্রশিক্ষক পাইলটকে প্রশিক্ষণ দেবে। এছাড়া তারা প্রায় ১০০ জন রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষককেও প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। পরবর্তী বছরগুলোতে আরও পাইলট ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা প্রশিক্ষণের জন্য সেখানে যাবেন।

এর লক্ষ্য হলো তুর্কি বিমানবাহিনীকে আগে থেকেই প্রস্তুত করে তোলা। কর্মকর্তারা চান ২০৩০ সালে প্রথম নতুন জেটটি আসার আগেই এর পরিচালনগত ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকুক।  

গত ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয় প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোফাইটার (ইএফ) সংগ্রহের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ফ্লাইট-সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যুক্তরাজ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং এরপরই সেখানে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আগামী বছরগুলোতেও যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের পাঠানো অব্যাহত থাকবে। কাতার ও ওমানের কাছ থেকে ব্যবহৃত ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও তুরস্ক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন যুদ্ধবিমান হাতে না আসা পর্যন্ত নিজেদের যুদ্ধবিমানের চাহিদা মেটানোই এর লক্ষ্য।

কাতার ‘ইউরোফাইটার টাইফুন ট্রাঞ্চ ৪’ মডেলের বিমান ব্যবহার করে, যা মাত্র কয়েক বছর আগে কেনা হয়েছিল। কাতার তুরস্ককে এ ধরনের ১২টি বিমান সরবরাহ করতে যাচ্ছে। তুরস্ক আশা করেছিল, ব্যবহৃত বিমানগুলো দ্রুতই হাতে পাবে। তবে জানা গেছে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে এই সময়সূচি কিছুটা পিছিয়ে গেছে।

ব্যবহৃত এই বিমানগুলো মূলত অন্তর্বর্তীকালীন চাহিদা পূরণের জন্য নেওয়া হচ্ছে। নতুন ইউরোফাইটার টাইফুন বিমানগুলো পরিষেবায় যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো তুর্কি বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সহায়তা করবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/178274