পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি

পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  পাকিস্তানে চলতি বছরের জুন মাসে শুরু হওয়া বর্ষা মৌসুমের পর এখন পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ১০৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৪৪ জন। এছাড়া শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় রবিবার(২৭ জুলাই) ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ) স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, জুনের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৭-এ দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে (৫৫ জন), এরপরই রয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশ (৩৬ জন)। এনডিএমএ জানিয়েছে, অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বাড়ি বা ছাদ ধসে পড়ার কারণে।

‘ডন’ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঞ্জাবের প্রাদেশিক রাজধানী ও পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ অন্তত ১৭টি বন্যা ত্রাণ শিবির স্থাপন করেছে।

পাঞ্জাব সেচ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’। পাঞ্জাবের লাহোর ও গুজরানওয়ালা বিভাগজুড়ে প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার (১৫৪ বর্গমাইল) এলাকা এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে।

 

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বন্যার পানির বিশাল বিস্তৃতির কারণে বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা অভ্যন্তরীণ সমুদ্রের মতো মনে হচ্ছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ এক্সে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন, পুরো প্রদেশজুড়ে জরুরি উদ্ধারকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে এবং বন্যা-পরবর্তী পানি নিষ্কাশনের জন্য বিভিন্ন দল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

 

দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই; তবে বুধবার থেকে ইসলামাবাদ, পাঞ্জাবের উত্তরাঞ্চল, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং গিলগিট-বাল্টিস্তানের বড় নদীগুলোর অববাহিকার ওপরের অংশে ‘নতুন করে বৃষ্টিপাতের একটি ধাপ’ শুরু হতে পারে।

সংস্থাটি আরও জানায়, পাঞ্জাবের রবি নদী বর্তমানে ‘মাঝারি মাত্রার বন্যা’ পর্যায়ে বইছে এবং ‘অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক থেকে মৃদু বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে’। পাঞ্জাব থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার জানান, কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিচু এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

হায়দার বলেন, এখন পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। স্বল্প সময়ে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে প্রাদেশিক রাজধানী লাহোর এবং পাঞ্জাবের অন্যান্য প্রধান শহরগুলোকে প্লাবিত করেছে।

এখন সবার নজর থাকবে নদীগুলোর পরিস্থিতির ওপর। গ্রাম থেকে শহরে দ্রুত অভিবাসনের ফলে সৃষ্ট পাকিস্তানের বিশৃঙ্খল নগর পরিকল্পনার কারণে এমন সব বিশাল বস্তি গড়ে উঠেছে, যা বিশেষ করে বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

গত বছর পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় ১,০৩৭ জন মানুষ প্রাণ হারান, ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন এবং লাখ লাখ গবাদি পশু মারা যায়; পাশাপাশি ক্ষেতের ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177809