শ্বশুরবাড়ির পুকুর থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী-শ্বশুর আটক

শ্বশুরবাড়ির পুকুর থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী-শ্বশুর আটক

গোপালগঞ্জে শ্বশুরবাড়ির পুকুর থেকে বি এম মাহমুদুল ইসলাম (৩৮) নামের এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ফাতেমা কানিজ ও শ্বশুর কবিরুল ইসলাম ওরফে ঝুনু শেখকে আটক করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার পাইককান্দি গ্রাম থেকে ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত পুলিশ সদস্য বি এম মাহমুদুল ইসলাম সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের হায়দার আলী ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি খাগড়াছড়ির মহালছড়ির ৬ এপিবিএন-এর এসআই (সশস্ত্র) পদে কর্মরত ছিলেন।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার বড় ভাই বি এম আশিকুজ্জামান বলেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকতেন। তাই ভাই ছুটিতে এলে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। এবার ছুটিতে বাড়িতে আসার পর শ্যালককে বিদেশে পাঠানোর টাকা নিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। আমার ধারণা, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। আমি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনপূর্বক বিচার দাবি করছি।

নিহতের ছোট বোন নাদিরা সুলতানা বলেছেন, আমার ভাবি-ভাইকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দিতেন না। এর আগে ভাবি আমার ভাইকে দুবার খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মারতে চেয়েছিলেন। আমরা সন্দেহ করছি, ভাবি ও তার বাড়ির লোকজন আমার ভাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার পুলিশ সদস্য মাহমুদুল কর্মস্থল থেকে ছুটিতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। আজ সোমবার সকালে শ্বশুরবাড়ির অদূরে একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ফাতেমা কানিজ ও শ্বশুর কবিরুল ইসলাম ওরফে ঝুনু শেখকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177798