ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পুকুরপাড়ে বৃদ্ধার মানবেতর জীবন

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পুকুরপাড়ে বৃদ্ধার মানবেতর জীবন

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: জীবনের পড়ন্ত বিকেলে এসে যখন প্রতিটি মানুষের একটু উষ্ণতা, আর বিশ্রামের প্রয়োজন, ঠিক তখনই ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পুকুর পাড়ে ঝুপড়ি ঘরে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন প্রায় ৮০ বছরের বৃদ্ধা বিমলা রাণী। এ ঘটনাটি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের রামদেবপুর গ্রামের।

সরেজমিনে রামদেবপুর গ্রামে দেখা যায়, বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া বিমলা রাণীর শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা জটিল রোগ। চোখেও ঠিকমতো দেখতে পান না। কোমরের তীব্র ব্যথায় সোজা হয়ে দাঁড়ানোর শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন।

ভাঙা ঘড়ের সামনে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বসে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। ঘরের চালে থাকা ভাঙা টিন ও বেড়ার ফাঁক দিয়ে অনায়াসেই বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢোকে। কোনো বিছানা নেই। একটি ছেঁড়া বস্তা আর পুরনো কাপড়ের ওপর কষ্টে তার দিন পার হয়।

নিজের অতীত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিমলা রাণী। তার ভাষ্য, ২০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার আর কেউ খোঁজ রাখেনি। বাধ্য হয়ে পুকুরপাড়ে ঝুপড়ি ঘরটি তুলেছি। আগে হেঁটে মানুষের কাছে হাত পাততাম, যা পেতাম তা দিয়ে আধপেট খেয়ে বেঁচে ছিলাম। এখন তো উঠতেই পারি না, খাব কি?

কোষারানীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, গ্রামে অনেক অসহায় মানুষ রয়েছে। তিনি সাধ্যমত তাদের সাহায্য সহযোগিতা করছেন। বিমলা রাণীর বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম জানান, বিমলার বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177759