করতোয়ায় ভাঙনের খবরে ইতিবাচক সাড়া
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দৈনিক করতোয়ায় গত ২১ জুলাই প্রকাশিত করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণসহ শতাধিক ঘর-বাড়ি- শীর্ষক সংবাদের পর দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর ভাঙনকবলিত মানুষের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তির পরশ। সংবাদের প্রেক্ষিতে ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রশাসন ও দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করেছে।
আজ রোববার (২৬ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। শ্রমিকরা দিনভর নদীর তীরে জিও ব্যাগ ফেলছেন। এতে আপাতত ভাঙনের গতি কিছুটা কমেছে। স্থানীয়দের আশা, জরুরি ভিত্তিতে নেওয়া এই উদ্যোগ ভাঙনের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে। তবে করতোয়া নদীর ভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে জনপদ রক্ষায় দ্রুত টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাপিতপাড়া এলাকার নদীতীরবর্তী স্থায়ী বাসিন্দা জমিলা বেগম বলেন, নদীর ভাঙনে আমরা কয়েকদিন ধরে আতঙ্কে ছিলাম। এখন জিও ব্যাগ ফেলায় কিছুটা সাহস ফিরে পেয়েছি। তবে স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আবার একই সমস্যা হবে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, বর্তমানে কুলানন্দপুর নাপিতপাড়া এলাকায় বালুর বস্তা ফেলার যে কার্যক্রম চলছে, তা সম্পূর্ণ একটি আপদকালীন ও জরুরি ব্যবস্থা। বর্ষা মৌসুমে তাৎক্ষণিক ভাঙন রোধ করতেই বর্তমানে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সর্বমোট ৩ হাজার ৩০৮টি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর নদী ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করার জন্য সিসি ব¬ক বা রিভেটমেন্ট কাজের মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবানা তানজিন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে।
নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177758