বগুড়ায় পাটের ভালো দামেও লাভ নিয়ে অনিশ্চিয়তায় কৃষক, বেড়েছে চাষাবাদ খরচ
স্টাফ রিপোর্টার : ভালো দাম পাওয়ার আশায় বগুড়ায় চলতি মৌসুমে বেড়েছে সোনালী আঁশ পাটের আবাদ। তবে সার, বীজ, সেচ ও চড়া শ্রমিক মজুরির কারণে বেড়েছে চাষের খরচ। ফলে ভালো ফলনে কাক্সিক্ষত লাভের মুখ দেখা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এ অঞ্চলের পাটচাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় ৭ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৮৬ বেল। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছরের ব্যবধানে বিঘা প্রতি পাট চাষের খরচ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে পাট আবাদ থেকে শুকানো পর্যন্ত গড়ে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ পড়ছে।
বগুড়া সদর উপজেলার চকমিঠুন এলাকার কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, পাট চাষ অত্যন্ত শ্রমঘন কাজ। ক্ষেত নিড়ানি থেকে শুরু করে পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর মৌসুমে চরম শ্রমিক সংকট দেখা দেয়, কৃষি শ্রমিকে দৈনিক মজুরি ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। সব মিলে পাট চাষ করে আগের মতো আর লাভ করা যাচ্ছে না।
আরেক কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্ষার শুরুতে খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেক কৃষককে দূর-দূরান্তের নদী বা গভীর জলাশয়ে ভ্যান বা ট্রলিতে করে পাট জাগ দিতে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে পাট চাষে পরিবহণ খাতেই বাড়তি ব্যয় বেড়েছে। এছাড়াও মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে বাড়তি সেচ দিতে হয়। তার ওপর জ্বালানি তেল ও সারের দাম বাড়ায় জমি প্রস্তুতির খরচও বেড়েছে।
পাটচাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘায় গড়ে ৮ থেকে ১০ মণ পাট পাওয়া যায়। যদি বাজারে প্রতি মণ পাটের দাম সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা থাকে, তবেই সব খরচ উঠিয়ে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ হয়। বর্তমানে বগুড়ার বাজারে প্রতিমণ পাট সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ২শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলছেন, পাট মূলত বৃষ্টি নির্ভর ফসল। পাট চাষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির বিকল্প কিছু নেই। সরকারি নানা উদ্যোগ, উন্নত জাত ও বিগত কয়েক বছর রেকর্ড দামে কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছিলেন। এতে সোনালী আঁশের সম্ভাবনার দুয়ার আবার খুলতে শুরু করেছিল।
তবে বিগত কয়েক বছরে বৈরি আবহাওয়ায় কৃষরা পাট চাষে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বিশেষ করে চাষ মৌসুমের শুরুতে এবং পঁচানোর সময় পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করে। এই কর্মকর্তা বলেন, তবে চরাঞ্চল ও সমতলের কৃষকদের মাঝে রিবন রেটিং বা কম পানিতে পচানোর অনুজীব ছিটিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি সহজলভ্য করে পরিবহণ খরচ বাঁচানো এবং পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর সাশ্রয়ী যন্ত্রের প্রসার ঘটানো গেলে পাটের আবাদ বাড়ানো সম্ভব।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177757