যানবাহনের বডিতে ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের নির্দেশ কেন নয়, হাইকোর্টের রুল
যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কুইক রেসপন্স টিম গঠন, বেপরোয়া গতি কমাতে প্রতিটি গণপরিবহনে ভেতরে-বাইরে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা স্থাপন এবং একতলা বিশিষ্ট বাসকে ডাবল ডেকারে রূপান্তর ঠেকাতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সেটিও জানতে চেয়েছেন আদালত।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রবিবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় সেন্টমার্টিন পরিবহনের সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান রিটটি দায়ের করেন। আইনজীবী বাহাউদ্দিন আল ইমরানকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে করা তার আবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী।
এর আগে, গত মে মাসে দুর্ঘটনায় আহত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে ওই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ‘আরামের আড়ালে মারণফাঁদ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ সংযুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ এক তলা বাসের চেসিসের ওপরই তৈরি হচ্ছে দ্বিতল স্লিপার বাস। এর মধ্যে কোনো কোনো বাসের নিচ তলায় বিজনেস ক্লাস সিট ও ওপরে স্লিপার সিট থাকে, আবার কোনোটিতে নিচে ও ওপরে দুই তলাতেই থাকে স্লিপার সিট। বাসগুলো সাধারণ এক তলা বাসের তুলনায় বেশি উচ্চতার তৈরি করা হয়। অনুমোদনহীন এই রূপান্তরের বিষয়ে বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একেবারেই নীরব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, টাইপ অনুমোদন না থাকায় বর্তমানে স্লিপার বাস অনুমোদনের সুযোগ বিআরটিএর নেই। তবে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। দ্বিতল স্লিপার বাসের চেসিস কী ধরনের হবে, বডির ডিজাইন, সিটের ধরন বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে ওই নীতিমালায়।
বর্তমানে কীভাবে স্লিপার বাস চলছে, এ প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে সাধারণ বাসের অনুমোদন নিয়ে পরবর্তী সময়ে বাসগুলোকে রূপান্তর করে স্লিপার বাসে পরিণত করা হয়।
তবে বছর ঘুরে ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে আসলে, সেসব বাস কীভাবে ফিটনেস সনদ পায়, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177720