রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার তীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার তীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি : তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের গোডাউনের হাট এলাকায় তীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ ধসে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, একটি মসজিদ এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এছাড়া ভাঙনস্থল থেকে প্রায় ৩শ’ গজ দূরে অবস্থিত শহর রক্ষা বাঁধও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রংপুর শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। 

সরেজমিন আজ শনিবার গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০ মিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের কংক্রিট ব্লক একের পর এক নদীতে ধসে পড়ছে। এতে প্রায় ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ধসের কারণে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে এবং ঝুঁকির পরিধিও বাড়ছে।

গোডাউনের হাট এলাকার বাসিন্দা সেল্টু মিয়া বলেন, শুক্রবার রাত থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রায় ২০ মিটার জায়গা ভেঙে গেছে। সারারাত আতঙ্কে কাটাইছি। শুধু জিওব্যাগ না, দ্রুত কংক্রিট ব্লক ফেলতে হবে, না হলে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হবে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার বলেন, আগেই নদী হামার বাপ-দাদার সব জমি নিয়ে গেছে। এখন শুধু বসতভিটাটুকুই আছে। গতকাল থেকে বাড়ির পাশেই ভাঙন শুরু হয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটাও নদীতে চলে যাবে। তখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, জানি না।

ধসের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম।

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, ধসের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে এসেছি। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ ও আশপাশের মানুষের জানমাল রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করেছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। মানুষের জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় যা যা করণীয়, সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

পাউবো রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, বাঁধটি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগে মাটি ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাঙন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177551