টক-মিষ্টি স্বাদের লটকন, কেন পুষ্টিকর?

টক-মিষ্টি স্বাদের লটকন, কেন পুষ্টিকর?

বর্ষাকাল এলেই বাজারে ভিড় বাড়ে দেশীয় রসালো ফল লটকনের। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ছোট ফলটি শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ হওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

লটকনের বৈজ্ঞানিক নাম 'ব্যাকাউরিয়া সাপিডা'। ইংরেজিতে এটি 'বার্মিজ গ্রেপ' নামে পরিচিত। আকারে ছোট ও গোলাকার এই ফল পাকলে হলুদাভ রং ধারণ করে। ভেতরের জেলির মতো রসালো অংশই খাওয়ার উপযোগী।

মৌসুম ও প্রাপ্যতা

বাংলাদেশে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লটকনের মৌসুম থাকে। তবে জুলাই ও আগস্ট মাসে এর সরবরাহ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বর্ষাকালে দেশের বিভিন্ন ফলের বাজারে এই ফলের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

উৎপাদন এলাকা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লটকন চাষ হলেও নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সিলেট অঞ্চলে এর উৎপাদন তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে নরসিংদীর বেলাব উপজেলা লটকন চাষের জন্য “লটকনের গ্রাম” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

পুষ্টিগুণ

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-১ ও বি-২, খাদ্য আঁশ এবং অল্প পরিমাণ আয়রন।

গবেষণা ও পুষ্টি তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম লটকনে প্রায় ১৭৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১৭৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং ১৬৯ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকতে পারে।

স্বাস্থ্য উপকারিতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লটকন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। পাশাপাশি ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

ফাইবার থাকায় এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখে। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177469