যুক্তরাষ্ট্র নতুন শুল্ক আরোপ করেনি, আগের শুল্কই প্রতিস্থাপন করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র নতুন শুল্ক আরোপ করেনি, আগের শুল্কই প্রতিস্থাপন করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন করে কোনো শুল্ক আরোপ করেনি, বরং আগের শুল্কই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে নতুন নামে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সিলেটে চা শ্রমিকদের জন্য আয়োজিত বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প, পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু সেবা এবং চক্ষু ক্যাম্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রকৃতপক্ষে শুল্ক পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্ক আরোপ করেছিল, তা আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ১৫০ দিনের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে। আগের শুল্কের মেয়াদ শেষ হলে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।'

তিনি বলেন, 'এটি নতুন শুল্ক আরোপ নয়, বরং রিপ্লেসমেন্ট (প্রতিস্থাপন) বলা যায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুক্রবার রাত ১২টার পরও আগের শুল্কই থাকবে, তবে তা ভিন্ন নামে কার্যকর হবে।

এ সময় তিনি জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই।

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চা বাগান এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মেডিকেল ক্যাম্প চালু হলে চা শ্রমিকদের শহরে না গিয়ে বাগানেই স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ইউরোপ, চীন, ভারতসহ বাংলাদেশের মতো বাণিজ্যিক অংশীদারদের পণ্য রপ্তানিতে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177444