এমপি পদ ছাড়তে গাজী নজরুলকে জামায়াতের আলটিমেটাম, না মানলে স্পিকার-ইসিতে চিঠি

এমপি পদ ছাড়তে গাজী নজরুলকে জামায়াতের আলটিমেটাম, না মানলে স্পিকার-ইসিতে চিঠি

দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি পদত্যাগ না করলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে বলেন, গাজী নজরুল এখন আর জামায়াতের সদস্য নন। ফলে তিনি জামায়াতের এমপি হিসেবেও বিবেচিত নন। এ কারণে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের জন্য আইনসম্মত সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্প্রতি গাজী নজরুলকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে জামায়াত। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর বুধবার দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী গাজী মো. নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, গাজী নজরুলকে স্বেচ্ছায় এমপি পদ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে তিনি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। একই সঙ্গে পদত্যাগ না করার বিষয়েও আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান দেননি।

জামায়াতের এক সংসদ সদস্য বলেন, সংসদীয় দলের কোনো সদস্যই গাজী নজরুলের পক্ষে অবস্থান নেননি। বরং সবাই তাকে বহিষ্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, গাজী নজরুল যদি পদত্যাগ না করে আইনি লড়াই চালিয়ে যান, তাহলে কিছু সময় এমপি পদে বহাল থাকতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিনি জামায়াতের সংসদীয় দলে থাকতে পারবেন না।

গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে থাকা ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে তিনি নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। ওই তরুণী, তার বাবা এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও তাদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে বিয়ের কাজী বদরুল আলম মো. বাকী বিল্লাহ জানান, ১৭ জুন নয়, বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ১৯ জুলাই। এ তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যদিও বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আগে বিয়ে সম্পন্ন করে পরে নিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে, তবে বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার এবং তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177289