এনসিপি নেতা কাফিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

এনসিপি নেতা কাফিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিদ্যালয়ের জমি দখল, মাটি কেটে জমির আকার পরিবর্তন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বড় ভাই এবং বাবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বাদী হয়ে সোমবার (২০ জুলাই) কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কলাপাড়া থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই সকালে কলাপাড়া উপজেলার রজাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুজ্জামান কাফি, তার বড় ভাই মামুন এবং বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ভেকু (খননযন্ত্র) নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কয়েকজন সহকারী শিক্ষককে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত জায়গা থেকে অন্তত এক লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলিতে করে সরিয়ে ফেলেন এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জমির প্রকৃত ওয়ারিশরা মালিকানা পেয়েছেন এবং তিনি তাদের কাছ থেকে বায়নামূলে জমিটি কিনেছেন। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার কোনো কথোপকথন বা সাক্ষাৎ হয়নি দাবি করে কাফি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে নুরুজ্জামান কাফি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আদালতে এ মামলাটি করা হয়।

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177140