রংপুরে সবজির মাঠে সবুজ স্বপ্ন ফলন ভালো, হাসছে কৃষক

রংপুরে সবজির মাঠে সবুজ স্বপ্ন ফলন ভালো, হাসছে কৃষক

রংপুর প্রতিনিধি: বর্ষার মাঝামাঝি সময়েও রংপুর অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। কোথাও মাচাজুড়ে ঝুলছে ঝিঙ্গা, করলা আর কাকরোল, কোথাও আবার ক্ষেত ভর্তি বেগুন, বরবটি, দুধকুশি কিংবা অফ-সিজনের বাঁধাকপি।

ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা ব্যস্ত ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহে। ট্রাকভর্তি এসব সবজি প্রতিদিন ছুটছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বাম্পার ফলন ও তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। তবে বাজারে সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকায় স্বস্তিতে নেই সাধারণ ভোক্তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর কৃষি অঞ্চল সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী এই পাঁচ জেলায় ৩০ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে ৩১ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ বেশি।

রংপুর কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমির সবজি সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড়ে ১৮ দশমিক ৪৭ টন ফলনের হিসেবে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৭ টন গ্রীষ্মকালীন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো পরিচর্যার কারণে এবার মৌসুম শেষে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রংপুর জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে আলু ২৫ থেকে ৫০ টাকা, দুধকুশি ৪০ টাকা, কাকরোল ৪৫ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ পটল ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা এবং পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ধনেপাতা, সজিনা, বরবটি, কচুর লতি, ওলকচুসহ অন্যান্য সবজির দামও তুলনামূলক বেশি।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা গেলে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তার কাছেও সহনীয় দামে সবজি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ এবং সম্ভাব্য বাম্পার উৎপাদন সেই সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177134