কোরিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ১৮ কোটি টাকা আটকা, বিপাকে ৩০০ শিক্ষার্থী!
দক্ষিণ কোরিয়ার শিনগিয়ংজু ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করা তিন শতাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর টিউশন ফির প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে টাকা ফেরত না পেয়ে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের বাংলাদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়ায় তারা ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এসময় জনপ্রতি প্রায় ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা করে টিউশন ফি নেওয়া হয়। প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এভাবে মোট প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষিত রিফান্ড নীতিমালা অনুযায়ী টাকা ফেরত পাওয়ার কথা থাকলেও পাঁচমাসের বেশি সময় পার হলেও তারা কোনো অর্থ ফেরত পাননি। এমনকি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কার্যকর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
টাকা ফেরত পেতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ‘ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ফোরাম’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। এ ফোরামের সমন্বয়ক নাদের আহমেদ রিমন বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের। বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে অনেকে ঋণ নিয়েছেন, আবার কেউ জমি বিক্রি বা পরিবারের সঞ্চয় ভেঙে এ অর্থ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা আটকে থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটের পাশাপাশি মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।
তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে যত প্রচেষ্টা তা করেছি। এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমরা। এজন্য দ্রুত টাকা ফেরতে ব্যবস্থা নিতে বুধবার (২২ জুলাই) শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবো আমরা। কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি হস্তক্ষেপ চাইবো।
তবে শিক্ষার্থীদের এ অভিযোগের বিষয়ে শিনগিয়ংজু ইউনিভার্সিটি বা তাদের বাংলাদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177072