নজিরবিহীন ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, যোগ দিচ্ছেন কৃষকরা

নজিরবিহীন ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, যোগ দিচ্ছেন কৃষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও এর আশপাশে গতকাল সোমবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের এমন উপস্থিতিতে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা রীতিমতো অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন।কয়েক স্তরের ব্যারিকেড, তিন হাজারের মতো নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধের পরও নজিরবিহীন এ ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিশাল এ জনস্রোত পৌঁছে যায় সংসদ ভবনের দোরগোড়াতেও। পরে পুলিশ তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে এবং লাঠিপেটা করে।

এদিকে, ভারতে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের কৃষকরা। মূলত প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে আয়োজিত ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েত’-এ যোগ দিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার কৃষক দিল্লি অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। জানা গেছে, পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানায় প্রবেশের মুখ শম্ভু সীমানায় পৌঁছালে হরিয়ানা পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের পথ আটকে দেয়। তবে পাঞ্জাব থেকে আসা কৃষকদের আটকে দেওয়া হলেও আমবালা, কুরুক্ষেত্র ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আসা হরিয়ানার স্থানীয় কৃষকরা অবাধে দিল্লির দিকে তাদের যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।

দ্য হিন্দু পত্রিকার একজন প্রতিবেদক জানান, ‘নেতৃত্বহীন’ এই বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর থেকে রাইসিনা মার্গ হয়ে সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যান। এসময় পুলিশ তাদের তেমন কোনো বাধা দেয়নি। সংসদের দিকে যাওয়ার সব রাস্তা তখন বিক্ষোভকারীতে পরিপূর্ণ ছিল। গতকাল সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এদিনই বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে এগোতে থাকেন। একপর্যায়ে সংসদ প্রাঙ্গণ থেকে ১০০ মিটার দূরে বাস আড়াআড়ি করে রেখে পুলিশ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে।

সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। এর জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেয় অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাদের ডাকে সাড়া দিয়েই এ বিশাল জনতা জড়ো হয়েছিল। এর আগে বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ১৮ জুলাই ভোরে সেখান থেকে পুলিশ তাকে জোর করে তুলে দেয়। ২০ দিন ধরে অনশন করছিলেন তিনি। এ ঘটনা সম্ভবত বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করে। তার প্রতি সংহতি জানিয়ে শত শত মানুষ এ আন্দোলনে যোগ দিতে শুরু করেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/177017