রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অতিবৃষ্টিতে খাটো পাটগাছ ফলন কমে দুশ্চিন্তায় কৃষক

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অতিবৃষ্টিতে খাটো পাটগাছ ফলন কমে দুশ্চিন্তায় কৃষক

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: মৌসুমজুড়ে অতিবৃষ্টিতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার অধিকাংশ পাটক্ষেতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়নি। অনেক জমিতে পাটগাছ স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত খাটো হওয়ায় আঁশের পরিমাণ ও উৎপাদন কমে গেছে। এতে ভালো বাজারদাম থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ফলন কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে তোষা ও দেশি জাত মিলিয়ে ৩ হাজার ৪২৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে তোষা জাতের পাট ৩ হাজার ৯০ হেক্টর এবং দেশি জাতের পাট ৩৩৭ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, বীজ বপণ ও চারা গজানোর সময় দীর্ঘস্থায়ী অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হয়নি। ফলে অধিকাংশ ক্ষেতেই গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে এসময় পাটগাছ আরও লম্বা হওয়ার কথা ছিল।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার লক্ষ্মীটারী, গজঘণ্টা, মর্ণেয়া, কোলকোন্দ ও বড়বিল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক ক্ষেতেই পাটগাছের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় কম। কোথাও গাছের গোড়া মোটা হলেও দৈর্ঘ্য কম হওয়ায় আঁশের পরিমাণও কমে গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বড়বিল ইউনিয়নের গিড়িয়ারপাড় গ্রামের কৃষক লিমন মিয়া বলেন, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার বেশি জমিতে পাট করেছি। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে গাছ ঠিকমতো বাড়েনি। মর্ণেয়া ইউনিয়নের নরশিং গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি সবকিছুর খরচ বেড়েছে। তার ওপর ফলন কম হওয়ায় এবার লাভের আশা কম।

উপজেলার উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, স্বাভাবিকভাবে একটি পাটগাছের উচ্চতা ৮ থেকে ১৩ ফুট পর্যন্ত হয় এবং প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ মণ পাট পাওয়া যায়। কিন্তু চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে।

বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৩০ শতাংশ পাট কাটা শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যে অবশিষ্ট পাট কাটার কাজ শেষ হবে। তিনি আরও বলেন, ফলন কিছুটা কম হলেও কৃষকদের যথাসময়ে পাট কেটে সঠিক নিয়মে জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আঁশের মান ভালো থাকে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/176990