জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ৩ যুগ ধরে আড়াই ফিটে ব্যবসা

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ৩ যুগ ধরে আড়াই ফিটে ব্যবসা

মিনার হোসেন, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : আক্কেলপুর পৌর শহরের হাসপাতালের ব্যস্ত সড়কের পাশেই মাত্র দেড় ফুট প্রস্থ ও পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্যের বাক্স আকৃতির একটি ছোট্ট দোকান। পাশেইপল্লীবিদ্যুতের খুঁটি। ফলে কোন খদ্দের এলে বসার সুযোগও পান না। সেখানেই গত তিন দশক ধরে তালা-চাবি মেরামত করে জীবিকা করছেন মধ্য পঞ্চাশের আব্দুল মতিন। পৌর এলাকার একমাত্র তালা-চাবি কারিগর তিনি।

জয়পুরহাটের জামালপুর ইউনিয়নের খেজুরতলী গ্রামে মতিনের বাড়ি। পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দেন তিনি। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে ছোট্ট এই উপজেলা শহরে হাসপাতালের সামনে এই দোকান নিয়ে শুরু করেন তালা-চাবি মেরামতের কাজ।

মতিন বলেন, ‘প্রথম যখন এই কাজ শুরু করি তখন আক্কেলপুর বাজারে আরও পাঁচ-ছয়জন তালা-চাবির কারিগর ছিল। কিন্তু খদ্দের তেমন না আসায় সবাই পেশা বদলেছে। কিন্তু আমি বদলায়নি। এই ছোট্ট দোকান থেকেই স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছি ৩০ বছর ধরে। কারও আগ্রহ নাই এই কাজ শেখার, তবে আমি মরে গেলে হয়তবা এই পেশা হারিয়ে যাবে’।

দোকানের ভেতরে একজন মানুষ বসলে আর নড়াচড়া করার মতো জায়গা থাকে না। চারদিকে তালা, চাবি, কাটিং মেশিন, ফাইল, পায়ার্স, স্ক্রু-ড্রাইভারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি গাদাগাদি করে রাখা। তিনি বলেন, অনেক ক্রেতা ফোন করে দোকান খুঁজে না পেয়ে ফিরে যান। কেউ কেউ কয়েকবার খুঁজে তারপর আসেন। সামনে যদি একটু জায়গা থাকত, তাহলে অন্তত: একজন মানুষ দাঁড়িয়ে কাজ করাতে পারতেন’।

একসময় প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হলেও বর্তমানে গড়ে ৪শ’ থেকে ৭শ’ টাকার বেশি আয় হয় না। কোনো কোনো দিন মাত্র ২০০ টাকায় দিন শেষ করতে হয়। বিদ্যুৎ বিল, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও কাঁচামাল কিনতে মাসে আরও প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। মতিন জানান, আগে মানুষ তালা মেরামত করাতেন। এখন নষ্ট হলে নতুন তালা কিনে নেন। আবার ডিজিটাল লক আসায় কাজ আরও কমে গেছে।

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুর রহমান বলেন, ‎বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের বিষয়টি কারিগরি ও নিরাপত্তাজনিত দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কেউ লিখিত আবেদন করলে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করব।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/176969