বগুড়ায় ডিবি হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু, পুলিশের দাবি আত্মহত্যা
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় ডিবি পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আসাদ আত্মহত্যা করেছেন। ডিবির হাজতখানার টয়লেটে গিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে নিজের লুঙ্গি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। আজ রোববার (১৯ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান।
আত্মহননকারী আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আসাদ। গত শনিবার দুপুরে ডিবি পুলিশের একটি দল বগুড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছিল।
পুলিশ সূত্র জানায়, এর আগে গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে সিএনজি অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে নিহত আসাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনিবার আসাদকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
ডিবি বগুড়ার (ওসি) মো. ইকবাল বাহার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসাদ জানিয়েছিল, গত ২৮ জুন সন্ধ্যার পর সে আরও দুজনকে নিয়ে যাত্রী সেজে ওই অটোরিকশা ভাড়া করে। পরে সারিয়াকান্দি এলাকায় চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার মরদেহ একটি বিলে ফেলে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁ যায়। পরে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে সেখানেই অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যায় তারা। পরে আসাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুপার রায়হান জানান, আজ রোববার (১৯ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। এ অবস্থায় সকাল ১০টা ১১ মিনিটের দিকে সে ডিবির হাজতখানার টয়লেটে প্রবেশ করে।
প্রায় ১০ মিনিট পরও বের না হলে পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তাকে লুঙ্গি দিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো বলেন, হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকালে নাশতা করার পর আসাদ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে। এরপর সকাল ১০টা ১১ মিনিটে বাথরুমের টয়লেটে প্রবেশ করে।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি বলেন, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আসাদের গলায় ফাঁসের একটি স্পষ্ট দাগ পাওয়া গেছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসাদের বাবা ও মাদ্রাসাশিক্ষক মতি মুন্সি বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। ডিবি হেফাজতে আত্মহত্যার খবর তিনি পরে জানতে পারেন।
ডিবির ওসি আরও জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে ময়না তদন্তের জন্য তার মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকের কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তশেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি এ মৃত্যুর ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/176797