বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বিপৎসীমার কাছাকাছি যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বিপৎসীমার কাছাকাছি যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া সারিয়াকান্দিতে যমুনা এবং বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে এবং বাঙালি নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী দুই নদীর পানিই দু একদিনের মধ্যেই স্থিতিশীল হয়ে কমতে শুরু করবে। আপাততঃ বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা খুবই কম।

গত কয়েকদিন আগের ভারী বর্ষন এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে উপজেলার যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি কয়েকদিন ধরেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ৫ থেকে ৬ দিন ধরেই পানি বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় উপজেলার মথুরাপাড়া পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৫.৪২ মিটার।

আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) পানির উচ্চতা হয়েছে ১৫.৫০ মিটার। অর্থাৎ গত ২৪ ঘন্টায় পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ উপজেলায় যমুনা নদীর পানির বিপৎসীমা ১৬.২৫ মিটার। অর্থাৎ যমুনার পানি এখনো বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় বাঙালি নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৫.০১ মিটার।

আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) এ নদীর পানির উচ্চতা হয়েছে ১৫.০২ মিটার। অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায় বাঙালি নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ উপজেলায় বাঙালি নদীর পানির বিপৎসীমা ১৫.৪০ মিটার। অর্থাৎ বাঙালি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে কয়েকদিনের পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার অপেক্ষাকৃত নিম্ন এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

এখনো পানি যেহেতু বিপৎসীমার অনেক নীচেই রয়েছে তাই কোথাও ঘরবাড়িতে পানি উঠার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকদিনের টানা বর্ষনে উপজেলার বেশকিছু মাছের খামার ভেসে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। অপেক্ষাকৃত নীচু এলাকার গো চারণভূমি পানিতে আক্রান্ত হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন খালে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। নীচু এলাকার পাটগাছ এবং ধইঞ্চার ফসলসহ কিছু ধান ও ধানের বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হতে শুরু করেছে। পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় চরাঞ্চলের মানুষরা বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ অথবা উঁচু কোথাও আশ্রয় নেয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।

উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বড় কুতুবপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার বাড়িটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের বাইরে পরেছে। তাই প্রতিবছর আমিসহ আমাদের গ্রামের হাজারও লোকজন প্রতিবছর বন্যার সময় বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেই। গত কয়েকদিন ধরেই পানি বেড়ে পানি একেবারে বাড়ির কাছে চলে এসেছে। তাই আবার বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং ভারি বর্ষণের জন্য যমুনা এবং বাঙালি নদীর পানি গত কয়েকদিন ধরেই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু পানি বৃদ্ধির হার একেবারে কমে গেছে।

তাই ধারণা করা হচ্ছে দুই নদীর পানিই দু একদিনের মধ্যেই স্থিতিশীল হয়ে কমতে শুরু করবে। এ যাত্রায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে উজানে যদি আবারো ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়, সেক্ষেত্রে পানি আবারো বাড়তে পারে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/176610