অভিনয়েই কেটে গেল ডলি জহুরের পাঁচ দশক

অভিনয়েই কেটে গেল ডলি জহুরের পাঁচ দশক

বিনোদন ডেস্ক : তিনি কখনো মমতাময়ী মা, কখনো প্রতিবাদী১ গৃহিণী, আবার কখনো মধ্যবিত্ত পরিবারের চিরচেনা সেই ‘নিলু ভাবী’। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন গুণী অভিনয়শিল্পী ডলি জহুর। আজ এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জন্মদিন। জীবনের খতিয়ানে আজ তিনি পা রাখলেন ৭৩ বছরে। 

ডলি জহুরের অভিনয়ের হাতেখড়ি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়, ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একটি নাটকে অভিনয় করার মাধ্যমে তার প্রতিভার আলো ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নাট্যব্যক্তিত্ব ম. হামিদের হাত ধরে যুক্ত হন ‘নাট্যচক্র’ থিয়েটারে। সেখানে তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘লেট দেয়ার বি লাইট’। পরবর্তীতে তার বন্ধু এবং জীবনসঙ্গী জহুরুল ইসলামের সাথে যুক্ত হন ‘কথক নাট্যগোষ্ঠী’তে। এই দল থেকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গল্প ‘প্রাগৈতিহাসিক’ অবলম্বনে নির্মিত নাটকে অভিনয় করেন তিনি।

মঞ্চে তার ব্যস্ততা থামেনি। মামুনুর রশীদের ‘বাংলা থিয়েটার’-এর ‘মানুষ’ নাটকে অভিনয় করে বিদেশের মাটিতেও প্রশংসা কুড়ান। সেই সফরেই ‘আরণ্যক’ নাট্যদলের ‘ইবলিশ’ নাটকের অভিনেত্রী নাজমার অনুপস্থিতিতে হুট করেই মঞ্চে নামেন ডলি। দেশে ফেরার পর আরণ্যকের বিখ্যাত ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে 'প্রিন্সেস বলাকা' চরিত্রে অভিনয় করে পাকাপাকিভাবে জড়িয়ে যান দলটির সাথে।

মঞ্চের পর ডলি জহুর পা রাখেন ছোট পর্দায়। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ (১৯৮৫) দিয়ে ছোট পর্দায় তার রাজকীয় অভিষেক ঘটে। মোস্তাফিজুর রহমান পরিচালিত এই নাটকে ‘নিলু ভাবী’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
পরবর্তীতে হুমায়ূন আহমেদের একক নাটক ‘জননী’-তে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের কাঁদিয়েছিলেন তিনি।

টিভি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও ডলি জহুর এক অপরিহার্য নাম। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘অসাধারণ’। এরপর তিনি ১৬০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢাকাই সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছেন। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘শঙ্খনীল কারাগার’ (১৯৯২) চলচ্চিত্রে 'রাবেয়া' চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’-তেও তার অভিনয় ছিল অনবদ্য।

পরবর্তীতে ২০০৬ সালে কাজী মোরশেদ পরিচালিত ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রে কলু পাড়ার এক নির্মম বাস্তবতার গল্পে 'রোকেয়া' চরিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘আজীবন সম্মাননা’ বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত করে।

ছোট পর্দায় শুধু হুমায়ূন আহমেদের নাটকেই নয়, ২০১৫ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অঞ্জন আইচের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ‘শেষের রাত্রি’ নামের একটি বিশেষ টেলিফিল্মেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/176532