বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব : জরিপ

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব : জরিপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি মানুষের ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ বৈশ্বিক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ২০০২ সালে এ ধরনের জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম এত বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীনের প্রতি ইতিবাচক জনমত দেখা গেল। 

বুধবার (১৫ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে বিশ্বের ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারের বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের কাছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে তাদের ইতিবাচক বা নেতিবাচক ধারণার বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে স্পেন, ইতালি, গ্রিস, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়ায় চীনের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েলÑএই ছয়টি দেশে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জনসমর্থন তুলনামূলক বেশি।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক জোনাথন শুলম্যান বলেন, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তায় ওঠানামা দেখা গেছে। তবে আগে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা কমলেও চীন সাধারণত সমপর্যায়ে বা কিছুটা নিচে অবস্থান করত। এবার প্রথমবারের মতো এত বড় ব্যবধানে চীনের পক্ষে জনমত গড়ে উঠেছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, ইতালি, স্পেন, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশি হলেও উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে তুলনামূলকভাবে নেতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে উচ্চ আয়ের দেশ হওয়া সত্ত্বেও সিঙ্গাপুর এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

এশিয়া—প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মতামতের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তানে প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে জাপানে এ হার মাত্র ১১ শতাংশ। বিশ্বনেতাদের প্রতি আস্থার বিষয়েও জরিপে মতামত নেওয়া হয়। এতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি মানুষের আস্থার মাত্রা যাচাই করা হয়। উভয় নেতার ক্ষেত্রেই আস্থার হার তুলনামূলক কম হলেও অধিকাংশ দেশে শি জিনপিং ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন।

শি জিনপিংয়ের প্রতি সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ আস্থা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের উত্তরদাতারা। অন্যদিকে জাপানে এ হার মাত্র ৭ শতাংশ। ট্রাম্পের প্রতি সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ আস্থা দেখা গেছে ফিলিপাইনে, আর সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে। জরিপে আরও উঠে এসেছে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সম্মান চীনের তুলনায় বেশি বলে এখনো অনেকের ধারণা রয়েছে। তবে এ ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে। চীনের ক্ষেত্রে একই মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির অনিশ্চয়তা, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক দেশ বিকল্প শক্তি হিসেবে চীনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। তবে একই সঙ্গে শি জিনপিংয়ের নেতৃত্ব, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি চীনের আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগও রয়েছে। ফলে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বাড়লেও দেশটির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়ে গেছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/176483