আজ বিশ্ব সাপ দিবস
লাইফস্টাইল ডেস্ক : সাপের প্রতি মানুষের ভয় চিরন্তন। সভ্যতার ইতিহাস, পুরাণ কিংবা লোকবিশ্বাস—সবখানেই সাপকে ঘিরে রয়েছে রহস্য ও আতঙ্ক। কোথাও এটি প্রলোভনের প্রতীক, কোথাও আবার পুনর্জন্মের। তবে এই ভয় ও কুসংস্কারের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় এক ধ্রুব সত্য—প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সাপের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সাপ সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা দূর করতে এবং এই প্রাণীটির সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ১৬ জুলাই পালিত হয় ‘বিশ্ব সাপ দিবস’।
অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই সাপের দেখা মেলে। অরণ্য, মরুভূমি, পাহাড় কিংবা মানুষের বসতবাড়ির আশপাশ—সবখানেই এরা মানিয়ে নিতে পারে। বিশ্বে এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রজাতির সাপের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিস্ময়কর তথ্য হলো, এর মধ্যে মাত্র ৬০০ প্রজাতি বিষধর এবং মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতির সংখ্যা মাত্র দুই শতাধিক। অর্থাৎ, অধিকাংশ সাপই মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।
সাপ শীতল রক্তের প্রাণী, তাই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এরা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। বছরে তিন থেকে ছয়বার এরা পুরোনো চামড়া বদলে নতুন রূপ ধারণ করে। সাপ মূলত লাজুক প্রকৃতির এবং মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে। কেবল শিকার ধরা বা আত্মরক্ষার তাগিদেই এরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
কৃষকের ফসল রক্ষায় সাপের অবদান অপরিসীম। খেতের ক্ষতিকর ইঁদুর দমনে সাপ প্রধান ভূমিকা পালন করে। সাপ না থাকলে ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেত, যা খাদ্যশৃঙ্খল ও কৃষির ওপর মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনত।
বর্তমানে বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে অনেক প্রজাতির সাপ বিলুপ্তির পথে। বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র ‘অ্যানাকোন্ডা’ বা ‘হ্যারি পটার’-এ সাপকে কেবল ভয়ংকর হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে এরা বাস্তুসংস্থানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সাপ ‘বার্বাডোস থ্রেড স্নেক’ থেকে শুরু করে সবচেয়ে দীর্ঘ ‘রেটিকুলেটেড পাইথন’ কিংবা বিষধরদের রাজা ‘কিং কোবরা’—প্রতিটি প্রজাতিই প্রকৃতির বৈচিত্র্য রক্ষা করে। তাই বিশ্ব সাপ দিবসে বিশেষজ্ঞদের আহ্বান, সাপকে অকারণে হত্যা না করে এর গুরুত্ব অনুধাবন ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসা উচিত।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/176477