বগুড়ায় মুষলধারে বৃষ্টি: জলাবদ্ধতা আর পরিবহন সংকটে নাজেহাল নগরবাসী
স্টাফ রিপোর্টার : জুলাই মাসের শুরু থেকে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত মৌসুমী বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বগুড়ায় সকাল থেকেই আকাশ ভেঙে নামে মুষলধারে বৃষ্টি। আর এই অঝোর ধারার বৃষ্টিতে সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসেই চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী ছোট শিশু, পরীক্ষার্থী এবং অফিসযাত্রীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। জলমগ্ন রাস্তাঘাট, স্কুলগামী ও চলতি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সাথে ভিজেছে বই-খাতাও। সকাল থেকে ১১টা পর্যন্ত বগুড়ায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৪৭ দশমিক ২ মিলিমিটার। আর গত ১৩ দিনে বগুড়ায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩০৯ মিলিমিটার। এমন পরিস্থিতিতে আগামী পাঁচ দিন দেশের রাজশাহী বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি ও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আগের দিন রোববার রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টির পর সোমবার ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই আকাশ কালো করে মুসলধারে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে শহরের নিচু এলাকা এবং প্রধান সড়কগুলোর কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে যায়। ড্রেনের উপচে নোংরা পানি রাস্তায় চলে আসায় পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ছোট ছোট স্কুলগামী শিশুরা। অনেক পরীক্ষার্থীর জুতো-মোজা এবং জামাকাপড় ভিজে একাকার হয়ে যায়। এমনকি অনেকের ব্যাগ ও বই-খাতাও বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পায়নি। বৃষ্টির কারণে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষার সময় এক ঘন্টা পিছিয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন এইসএসসি পরীক্ষাথীরা। যখন তারা পরীক্ষার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় তখন চলছিল ঝমাঝম বৃষ্টি।
আক্ষেপ করে বগুড়ার সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, সকালে বাচ্চার স্কুলে পরীক্ষা ছিল। রাস্তায় এতটাই পানি যে রিকশাও পাওয়া যাচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে নোংরা পানি মাড়িয়েই স্কুলে যেতে হয়েছে। বাচ্চার জামা আর জুতো দুটোই ভিজে গেছে। যদিও এক্সট্রা একটা স্কুল ড্রেস নিয়ে গিয়ে তাকে পরিয়ে তবে হলে দিয়ে এসেছি।
বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক অনেক কম। ফলে প্রতিটি স্টপেজ ও মোড়ে মোড়ে ছাতা মাথায় মানুষকে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এই সুযোগে সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং রিকশাচালকরা দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। যানবাহন না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে বৃষ্টিতে ভিজেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি লোকসানের মুখে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, হকার ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কম থাকায় হকাররা দোকান খুলতে পারেননি। অন্যদিকে, ভিজে ভিজে রিকশা চালালেও কাঙ্ক্ষিত যাত্রী পাচ্ছেন না বলে জানান অনেক চালক। দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এই মানুষগুলোর দিনের আয়ে টান পড়েছে।
বগুড়ার আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। তিনি আরও জানান, জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ দুপুর পর্যন্ত বগুড়ায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩০৯ মিলিমিটার। এরমধ্যে মৌসুমের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে গত আট তারিখে। ঐ দিন ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/176111