বগুড়ায় আরিফ হত্যা মামলার ৪ আসামি রিমান্ডে

বগুড়ায় আরিফ হত্যা মামলার ৪ আসামি রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় আরিফ শেখ হত্যা মামলার গ্রেফতারকৃত ৪ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই মোস্তাফিজ এই আসামিদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মেহেদী হাসান আজ রোববার (১২ জুলাই) আসামি নয়ন ও নাহিদের  তিন দিনের রিমান্ড মুঞ্জুর করেন।

এছাড়া এর আগের দিন শনিবার অপর দুই আসামি বাদল ও তার ছেলে আকাশকে ৫ দিনের রিমান্ড মুঞ্জুর করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আরিফুল। এর আগে শুক্রবার গভীররাতে সদর থানার পুলিশ আসামি বাদল, আকাশ ও নাহিদকে গ্রেফতার করে। সেইসাথে র‌্যাব-১২ বগুড়ার সদস্যরা আসামি নয়নকে গ্রেফতার করে সদর থানায় হস্তান্তর করে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে বগুড়া মহানগরীর লতিফপুর কলোনি এলাকায় প্রীতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আরিফ শেখকে খুন করে দুর্বত্তরা। নিহত আরিফ লতিফপুর কলোনির আজিজ শেখের ছেলে।  স্বজনদের দাবি, ১০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে আরিফের সঙ্গে তার মামা বাদলসহ ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন বিকেল থেকেই প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে খুঁজছিল। পরে গভীররাতে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারিভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আরিফের বোন রুমি অভিযোগ করেন, তাদের মামা বাদলের কাছে আরিফ ১০ লাখ টাকা পেতেন। সেই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাদল ভাড়াটে লোক দিয়ে তার ভাইকে হত্যা করিয়েছেন। তবে এই অভিযোগ বাদলের পরিবার অস্বীকার করেছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহীম আলী বলেন, আরিফ শেখের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদক আইনে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এই হত্যার অভিযোগে আরিফের মামা বাদল, মামাতো ভাই আকাশ এবং নাহিদ ও নয়নসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওসি আরো বলেন, ১০ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের হিসেবে আরিফকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

এই টাকা নিয়ে আরিফের সাথে তার মামা বাদলের বিরোধ চলে আসছিল বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলমান রয়েছে। সেইসাথে মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদেরকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/176014